প্রধান সূচি

নাজিরপুরে আলোচিত সেলিম হত্যা

এক বছরেও খুনের রহস্য উদঘাটিত হয়নি ॥ অন্ধকারে পুলিশ

পিরোজপুরের নাজিরপুরে আলোচিত সেলিম হত্যাকান্ডের এক বছর পার হয়েছে গত ৩ জুলাই। এই দীর্ঘদিনেও হত্যাকারীদের গ্রেফতার তো দূরের কথা, হত্যাকরীদের চিহ্নিতও করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকান্ডের রহস্যও উদঘাটন করা যায়নি। এখনো অন্ধকারে রয়েছে পুলিশ।

২০১৭ সালের ৩ জুলাই বিকেলে উপজেলার কালিগঙ্গা নদী থেকে সেলিমের লাশ উদ্ধার করে নাজিরপুর থানা পুলিশ। এসময় সেলিমের মাথায়, কপালে ও ডান চোখে একাধিক কোপের জখম পাওয়া যায়। তখন পুলিশ ধারণা করে দুর্বৃত্তরা সেলিমকে পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য নদীতে ফেলে দিয়েছে।

এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ৩ জুলাই রাতে সেলিমের মা শরিফা বেগম বাদী হয়ে নাজিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তখন ওই মামলায় আসামী হিসেবে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। এ ঘটনার প্রায় একমাস পরে থানায় দায়ের হওয়া মামলার বাদী সেলিমে মা শরিফা বেগম থানায় দায়ের করা মামলার বিষয়টি গোপন করে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে পিরোজপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় অনেকটা বিভ্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় পুলিশকে। তবে আদালতে দায়ের করা মামলায় যে ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে সেলিম হত্যায় তাদের কোন সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা সে বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়।

জানা গেছে, এ মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেছেন নাজিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন। তিনি অন্যত্র বদলী হলে বর্তমানে নাজিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ মামলাটি তদন্ত করছেন।

সেলিমের মায়ের আদালতে দায়ের করা মামলার ২নং বিবাদী রিয়াজ হাওলাদার বলেন, সেলিমের শ^শুর আমার আপন মামাতো ভাই। সেলিম সম্পর্কে আমার জামাই। সেলিম এক সময় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিলো। সে খুলনার আলোচিত এরশাদ শিকদারের সহযোগী ছিল। অস্ত্রসহ সে পুলিশের হাতে আটকও হয়েছে। সে সময়ের কোন শত্রুতার জের ধরে সেলিম খুন হতে পারে বলে আমার ধারনা। কিন্তু সেলিমের মা ঘটনার পর থানায় দায়ের করা মামলায় কাউকে আসামী না করলেও পরে কোর্টে দেয়া মামলায় সেলিমের শ^শুর বাড়ীর ৬ জন আত্মীয়ের নাম উল্লেখ করেছে। এখন অহেতুক আমরা হয়রানী হচ্ছি। আমরাও চাই সেলিমের প্রকৃত খুনীরা সনাক্ত হোক।

সেলিমের স্ত্রী সোহানা আক্তার রিতা তার স্বামীর খুনের পর তিন মেয়ে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি নরসিংদী জেলা শহর এলাকার একটি গার্মেন্টন্সে চাকুরী করে মেয়েদের লালন পালন করছেন। মুঠোফোনে তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, তার স্বামীর আসল খুনীরা ধরা পড়–ক। তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। তবে তার দাবী এ ঘটনায় যেন কোন নিরপরাধ মানুষ হয়রানী না হয়।

মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা নাজিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ বলেন, হত্যার সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারা এতে জড়িত থাকতে পারে তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। শিগগিরই সেলিম হত্যার রহস্য উদঘাটন হবে বলে আশা করেন এই কর্মকর্তা।

নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকেই হত্যার সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনো আমরা অন্ধকারের মধ্যে আছি। ঘটনার কোনো ক্লু খুঁজে এখনো পাওয়া যায়নি। তবে মামলাটির তদন্ত এখন সিআইডিতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial