ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের দুর্ভোগ
নেই যাত্রী ছাউনী-পল্টুন, নেই কোন ঘাট ॥ বৃষ্টি আর কাঁদামাটিতে যাত্রীরা একাকার
কন্ঠ রিপোর্ট :
নেই কোন যাত্রী ছাউনী, নেই কোন পল্টুন, নেই ঘাট কিম্বা সিঁড়ি। কাঁদা মাটি পেড়িয়ে আর বৃষ্টিতে ভিঁজে একাকার হয়ে লঞ্চে উঠতে হচ্ছে যাত্রীদের। ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা কর্মজীবী মানুষকে এভাবেই দূর্ভোগের মধ্যে কর্মস্থলে ফিরে যেতে হচ্ছে। সেই সাথে লঞ্চের বাড়তি ভাড়ার বিড়ম্বনা তো রয়েছেই।
নাড়ির টানে স্বজনদের সাথে দেশের বাড়িতে ঈদ করতে আসা লোকজনকে কর্মস্থলে যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঈদের এক সপ্তাহ পেড়িয়ে গেলেও কর্মস্থলমুখী মানুষের এখনও ভীড় হয়েছে পিরোজপুরের বিভিন্ন লঞ্চ ঘাটগুলোতে।
সরেজমিনে শুক্র ও শনিবার পিরোজপুর সদর উপজেলার বেকুটিয়া ফেরিঘাট ও হুলারহাট লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা গেছে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের উপচেপড়া ভীড়। বিকেল ৫ টার দিকে বেকুটিয়া ফেরি ঘাট এলাকায় ঢাকাগামী পূবালী-৭ ও মানিক-১ লঞ্চ বোঝাই করা যাত্রী নিয়ে এসে নোঙ্গর করে। ফেরীঘাট এলাকা থেকে আরও কয়েক শত যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায় ঘাট। অপরদিকে হুলারহাট লঞ্চঘাট থেকে করে টিপু-৬, ফারহান-৯, রাজদ্রুত-৭, মনিংসান-৫ ও মহারাজ-৭ নামের লঞ্চগুলো ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনই যাত্রীদের চাপে লঞ্চের ছাদ পর্যন্ত তিল ধারনের ঠাঁই থাকে না।
উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরের প্রায় ৮স সহ¯্রাধিক মানুষ ছুটি শেষে তাদের কর্মস্থলে নির্বিঘেœ ফিরতে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন। বেকুটিয়া ঘাট থেকে ঢাকাগামী লঞ্চে উঠতে যাত্রীদের প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এখানে নেই কোন, পল্টুন, ঘাট বা সিঁড়ি। এছাড়া ফেরি ঘাট থেকে এক কিলোমিটারেরও বেশী কাঁচা ও এ্যাবড়ো-থ্যাবড়ো ইট সোলিং রাস্তা হেটে বর্ষা কাদায় শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষকে কাপড়-চোপড় নোংরা করে প্রতিনিয়ত অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নিয়ে লঞ্চে উঠতে হয়।
শনিবার হুলারহাট ও বেকুটিয়া ঘাট এবং পিরোজপুরের বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেল অসংখ্য যাত্রী টিকেটের অপেক্ষায় রাস্তার পাশে, হোটেল-রেষ্টুরেন্টে সময় কাটাচ্ছেন। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস ও লঞ্চ ঢাকায় ফিরছে।
প্রতিদিনই অসংখ্য যাত্রী বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদেরকে নিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় সবচেয়ে বেশী। লঞ্চ যাত্রীরা ঘাটে এসে ছোট ছোট ট্রলারে করে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে উঠতে ও নামতে হচ্ছে। অনেক যাত্রী আবার লাফিয়ে লঞ্চে ওঠেন অনেক ঝুঁকি নিয়ে। ফলে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে।
এদিকে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
লঞ্চ ষ্টাফরা জানান, লঞ্চের কেবিনগুলো আগেভাগেই বুকিং দেয়া হয়ে গেছে। সাধারণ যাত্রীদের জন্য যে ডেক তাও এক শ্রেনীর অসৎ দালাল ৩/৪ গুন বেশী টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছে। লঞ্চের ছাদে পর্যন্ত তিল ধারনের ঠাঁই নেই। অপরদিকে, কেবিনের ভাড়াও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৩/৪ গুন বেশী মূল্যে বুকিং দেয়া হয়েছে। ডেকের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে নির্ধারিত রেটের চেয়ে একশ’ টাকা করে বেশী নেয়া হচ্ছে। দুই হাজার দুই শত টাকার ডাবল কেবিনের ভাড়া নেয়া হচ্ছে তিন হাজার পাঁচ শত টাকা করে। তবে এ বিষয়ে লঞ্চের সুপারভাইজারসহ ষ্টাফরা কোন জবাব দিতে নারাজ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারী না থাকায় ভোগান্তি ও অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। এছাড়া বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা গেছে টিকিট না পেয়ে অনেক যাত্রীই বিকল্প পথে লঞ্চযোগে কর্মস্থলে ফিরছে। বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা গেছে টিকিট না পেয়ে অনেক যাত্রীই বিকল্প পথে লঞ্চযোগে কর্মস্থলে ফিরছে।
জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিসি থেকে বেকুটিয়ায় কোন ঘাট বরাদ্দ না দিলেও প্রায় তিন বছরের অধিক সময় ধরে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব না দিয়ে এমভি পূবালী, এমভি মানিক-১ এবং এমভি রেডসান নামের লঞ্চগুলো এখানে ঘাট দিয়ে যাত্রীসহ মালামাল পরিবহন করছে। বেকুটিয়ায় লঞ্চ ঘাট দিলেও যাত্রীদের সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘাটে নেই যেমন কোন যাত্রী ছাউনী, তেমনি নেই কোন পল্টুন কিম্বা সিঁড়ি। বেকুটিয়া ফেরি ঘাট থেকে উত্তরে এক কিলোমিটারেরও বেশী কাঁচা রাস্তা হেটে বর্ষা কাদায় দুর্ভোগ নিয়ে লঞ্চে উঠতে হচ্ছে যাত্রীদের।
