মঠবাড়িয়ায় ব্যবসায়ীসহ দু’জনকে কুপিয়ে হত্যা
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পৃথক দুটি ঘটনায় ব্যবসায়ীসহ দু’জনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দুপুরে উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়ন এবং ধানীসাফা ইউনিয়নে এই দুটি পৃথক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম (৩০) ও মোহাম্মদ ইউসুফ শরীফ (৩৫)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের ফুলঝুরি গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে মোহাম্মদ ইউসুফ শরীফকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত ইউসুফ ওই গ্রামের ফজলুল হক শরীফের ছেলে।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্ব শত্রæতার জেরে একই এলাকার আলমগীর শরীফের ছেলে মো. আরাফাত শরিফ (৩০), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (২৪) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জন মিলে ধারালো দা দিয়ে ইউসুফের গলা, ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, রবিবার দুপুরে উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাজু হাওলাদার বাড়িতে নিজ শোবার ঘর থেকে আব্দুল কাইয়ুম নামে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত কাইয়ুম ওই এলাকার জালাল হাওলাদারের ছেলে। তিনি স্থানীয় সাধনা ব্রিজ ও বড় ব্রিজ এলাকায় তৈরী পোশাকের (রেডিমেড জামা-কাপড়ের) ব্যবসা করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কাইয়ুমের স্ত্রী বাপের বাড়িতে থাকায় রবিবার দুপুরে তিনি ঘরে একাই ছিলেন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে শোবার ঘরে তাকে কুঠার দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। নিহত কাইয়ুমের একটি সন্তান রয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, নিহত কাইয়ুম মাদকাসক্ত ছিলেন। তবে এই হত্যাকান্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি।
একই দিনে পৃথক দুটি নৃশংস হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ দ্রæত ঘটনাস্থল দুটি পরিদর্শন করে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, ফুলঝুরি গ্রামের হত্যাকান্ডটি জমিজমা বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। অন্যদিকে টিকিকাটা ইউনিয়নে কুঠার দিয়ে কুপিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। দুটি ঘটনার প্রেক্ষিতেই পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
