ইমামদের চাকরি জাতীয়করণ করতে হবে : মাসুদ সাঈদী
পিরোজপুর-১ আসনে (পিরোজপুর সদর-নাজিরপুর-ইন্দুরকানী) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেছেন, ইমাম কোন পেশার নাম নয়। ইমাম দায়িত্ব পেয়েছেন আল্লাহর পক্ষ থেকে। ইমামদের মানুষ যেভাবে সম্মান করে, রাজনৈতিক নেতাদের সেভাবে সম্মান করে না। ইমামরা নেতা কিন্তু অধিকাংশ ইমামকেই অনুসরণ করে না। কারণ বর্তমানে ইমামরা ইমামতিকে সেবার না মনে করে চাকরি হিসেবে নিয়েছে। ইমামরা সমাজ বিনির্মাণে অনেক ভূমিকা পালন করতে পারেন।
আজ রবিবার পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির পিরোজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ষান্মাসিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, সমাজের মানুষ যদি ইমামদের কাছে সালিশের জন্য যেতো তাহলে কোরআন সুন্নাহ অনুযায়ী সমাজ প্রতিষ্ঠা হতো। শাসন দিয়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রন করা যায় না, মানুষের অনুভূতি জাগ্রত করার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সমাজ থেকে সমস্যা দূর হয়ে যেতো।
মাসুদ সাঈদী বলেন, মসজিদের সভাপতি হয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। এটা করে তারা তাদের একটি অবস্থান তৈরি করার জন্য। এই সভাপতির পদে বসা ব্যক্তিরা যেহেতু কুরআন হাদিস জানে না, ফলে তারা সভাপতি চেয়ারে বসে মসজিদে কোরআন হাদিসভিত্তিক আলোচনার বিরোধিতা করে।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পরে অন্তর্বর্তী সরকার ইমামদেরকে ১২ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু অদৃশ্য কারণে আজও সেই ভাতা চালু হয় নি। আমরা এই সম্মেলন থেকে সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, শুধু ভাতা নয় ইমামদের চাকরি জাতীয়করণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি মাওলানা আব্দুল হাই নিজামী বলেন, ইমামদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ইমামরা মসজিদের ভিতরে সকল দল মতের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখেন। যেটা রাজনৈতিক সরকারও পারে না। সুতরাং ইমামরা যদি ইমামের যথাযথ দায়িত্ব পালন করে তাহলে সমাজের জন্য অনেক কিছুই করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, কওমিয়া আলেমরাও কোরআন হাদিস পড়ে, আলিয়ার আলেমরাও কোরআন হাদিস পড়ে। একই কোরআন হাদিস পড়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারলে তবেই সমাজে পরিবর্তন আসবে।
তিনি বলেন, অনেকেই রাজনীতি করাকে তাকওয়া পরিপন্থী মনে করেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, রাজনীতি করা যদি তাকওয়া পরিপন্থি হয়, তাহলে আল্লাহর রাসূল (সা:), আবু বকর (রা:) ওমর (রা:) কিভাবে তাকওয়া রক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করলেন ?
অনুষ্ঠানে পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশিদ বক্তব্য রাখেন। তিনি ইমামদের সমাজে বসবাসরত মানুষের নৈতিক শুদ্ধতা, সমাজ গঠন, আগামীর প্রজন্মকে আদর্শবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা, নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, সমাজ থেকে মাদক দূরীকরণ, খাদ্যে ভেজাল, বাল্যবিবাহ বন্ধ করাসহ সমাজ গঠনমূলক জোরালো ভূমিকা রাখা জন্য আহ্বান জানান।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মুফতি মাওলানা আব্দুল হালিম এবং সঞ্চালনা করেন মাওলানা জাকির হোসাইন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, জাতীয় ইমাম সমিতি পিরোজপুর জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ, অধ্যক্ষ জহিরুল হক, বিভাগীয় সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল্লাহ আল মামুন, অধ্যক্ষ জহিরুল হক, ড. আব্দুল্লাহিল মাহমুদসহ উপজেলা প্রতিনিধিবৃন্দ।
