প্রধান সূচি

পরকিয়া প্রেমের সম্পর্কের জের

ইউপি সদস্য ও তার ভাবীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ প্রবাসীর বিরুদ্ধে

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে পরকিয়া প্রেমের সম্পর্কের জেরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য শহিদুল ইসলাম ও তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রবাসী ইউনুস শেখ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ সময় শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রেহেনা বেগমকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে তারা।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ৫নং চন্ডিপুর ইউনিয়নের ২নং চরবলেশ্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ মূল ঘাতক ইউনুস শেখের বড়ভাই রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামাান সেলিম হাওলাদারের ছোট ভাই ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের সঙ্গে চরবলেশ্বর গ্রামের প্রবাসী ইউনুস হাওলাদারের স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম একাধিকার স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছে। তিনি নারী নির্যাতনের এক মামলায় এক বছর আগে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। সম্প্রতি একটি নাশকতার মামলায় জেল থেকে বের হয়ে সে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আবার সম্পর্ক গড়ে তুলে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হলে এই ঘটনার জেরে ইউনুস শেখ তার লোকজন নিয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামকে (৫২) তার ঘরের সামনের পুকুরঘাটে কুপিয়ে হত্যা করে।
শহিদুল ইসলামের চিৎকার শুনে তার স্ত্রী রেহেনা বেগম ও বড় ভাই মর্তুজা হাওলাদারের স্ত্রী মুকুল বেগম ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এদের মধ্যে মতুর্জার স্ত্রী মুকুল বেগমও (৪০) মারা যায়। ইউপি সদস্য শহিদুলের স্ত্রী রেহেনা বেগমকে পুলিশ উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থাও আশংকাজনক বলে জানিয়েছে পরিবার।
নিহত শহিদুল ইসলামের মেয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তোহা মনি পুলিশকে বলেন, রাত ১১টার পর আমার বাবা ফকিরহাট বাজার থেকে এসে আমাদের ঘরের সামনের পুকুরঘাটে বসেছিল। এ সময় পূর্ব থেকে ওঁত পেতে থাকা পার্শ্ববর্তী ইউনুস শেখ তার লোকজন নিয়ে আমার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করে। চিৎকার শুনে আমরা মা ও কাকী বের হলে তাদেরকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এর মধ্যে কাকী মারা যায়, মাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থাও ভাল না।
৫নং চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, গত রাতে পূর্ব-শত্রæতার জেরে আমার পরিষদের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম ও তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ ইউনুস শেখ ও তার সহযোগীরা বলে লোকমুখে শুনেছি। হত্যা কোনো ফয়সালা নয়। আমি দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করছি।
ইন্দুরকানী থানার ওসি মারুফ হোসেন বলেন, পরকীয়ার জেরে প্রবাসী ইউনুস শেখ ও তার সহযোগীরা ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম ও তার ভাইয়ের স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তার স্ত্রীকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইউনুস শেখের বড়ভাই রফিকুল ইসলামকে রাতে আটক করা হয়েছে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial