স্বরূপকাঠীতে বিদ্যালয়ে ১৫ মেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের ১৫জন মেয়ে শিক্ষার্থী মাথা ঘুরে অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসকরা এটাকে ম্যাস হিস্টেরিয়া (H.C.R) রোগ বলে বলে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার আরামকাঠি হাজী ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকরা অসুস্থদের নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত ডাক্তার অসুস্থ শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে চিকিৎসা দিচ্ছেন। অভিভাবকরা খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। হঠাৎ বিদ্যালয়ের একাধিক মেয়ে শিক্ষার্থীরা একসাথে অসুস্থ হয়ে পড়ায় অনেকটা আতঙ্কিত ও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। তবে হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরা বলেছেন, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। চিকিৎসা চলছে। তারা শীগ্রই সুস্থ হয়ে উঠবে।
বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. শরীফ উদ্দীন ফরাজি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল চলাকালীন সময়ে সপ্তম শ্রেণির একজন মেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি দেখে তাকে ধরে প্রথমে মাথায় পানি দেয়া হয়। এতেও সে সুস্থ হচ্ছিল না। ক্রমেই তার শ্বাস প্রশাস বেড়ে যাচ্ছিল। এরপর ওই ক্লাশসহ অন্যান্যে ক্লাশের আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী দেখাদেখি একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে দ্রæত তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় অষ্টম এবং নবম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন তারাতারি স্কুল ছুটি দেয়া হয় এবং অসুস্থ সবাইকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
আরামকাঠি হাজী ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মো. শাহজালাল হাওলাদার জানান, বিদ্যালয় শুরুর এক ঘন্টার মাথায় প্রথমে ভবনের দ্বিতীয়তলা থেকে অষ্টম শ্রেণির একটি মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ক্রমেই তার শ্বাস প্রশাস বেড়ে যায়। আমরা শিক্ষকরা দৌঁড়ে তার কাছে গেলে পরক্ষনেই ওই শ্রেণির আরো ৪টি মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম এবং নবম শ্রেণি মিলিয়ে মোট ১৫জন একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্রæত স্কুল ছুটি দিয়ে অভিভাবকদের খবর দেয়া হয়। পরে দ্রæত অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের ভর্তি চিকিৎসা দেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার লিমা আক্তার জানান, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে একসাথে ১৫জন মেয়ে শিক্ষার্থী হাসপাতালে এসেছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি নেয়া হয়েছে। অসুস্থদের অক্সিজেন দিয়ে সেলাইন লাগানো হয়েছে। তিনি বলেন, এটাকে ম্যাস হিস্টেরিয়া (H.C.R) বলা হয়। এতে ভয়ের কোন কারণ নেই। তারা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে।
