প্রধান সূচি

আওয়ামী লীগের হামলা-মামলা আর পুলিশী নির্যাতনও দমাতে পারেনি

ছাত্রদলের অকুতোভয় সৈনিক ইমরান আহম্মেদ সজিব

জাতীয়তবাদী ছাত্রদলের রাজনীতি করাই জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল পিরোজপুর সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্র মো. ইমরান আহম্মেদ সজিবের।
ছাত্রদল করার কারণেই পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একর পর এক হামলা, মামলা আর নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে পিরোজপুর শহরের শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা আ. রাজ্জাক খানের কলেজ পড়–য়া ছেলে এমরান আহম্মেদ সজিবকে। কয়েকদফা আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রলীগের হামলা-মারধরে শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সজিব। মামলা আর পুলিশের নির্যাতনের ভয়ে তাকে দিনের পর দিন পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। আবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে মাসের পর মাস থাকতে হয়েছে কারাগারে। আর এ এসব কারণে সঠিকভাবে লেখাপড়াও চালিয়ে যেতে না পারেন নি পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরান আহম্মেদ সজিব।
তিনি জানান, ২০০৩ সালে পিরোজপুর সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজের শাখা ছাত্রদলের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সেই থেকে এখনও তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শের এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সৈনিক হিসেবে বিএনপি তথা ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। আর এ ছাত্রদলের রাজনীতি করতে গিয়ে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারসহ বিভিন্ন সময়ে পিরোজপুর ও ঢাকার বিভিন্ন থানায় তার (সজিব) বিরুদ্ধে ৪২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে প্রাণনাশের জন্য আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগ ৯বার হামলা চালিয়ে আহত করেছে। ৮ বার পুলিশী হামলার শিকার হয়েছেন।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে খুলনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে যাওয়ার পথে শ্রমিক লীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে আহত করে ছাত্রদল নেতা ইমরান আহম্মেদ সজিবকে। ২০২২ সালে ঢাকার নয়াপল্টনের বিএনপি অফিসের আসনে পুলিশের গুলি ও টিয়ারসেলে আহত হয় সজিব। সে সময়ে তাকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে থানা হাজতে নির্যাচন চালায়। ২০১৮ সালে পিরোজপুর জেলা বিএনপি অফিসের সামনের বসে পুলিশী হামলায় আহত হয়। ২০১৭ সালে ডিবির হাতে গ্রেফতার হন ছাত্রদলের এ নেতা। ২০১৬ সালে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকালে পুলিশের হামলায় আহত হন সজিবসহ ছাত্রদলের ৩৭ নেতা-কর্মী।
২০০৯ সালে ছাত্রদলের কাউন্সিলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলায় আহত হন ইমরান আহম্মেদ সজিব। এ সময় তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। একই বছর কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় তার শেখপাড়াস্থ বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। প্রাণভয়ে পিরোজপুর থেকে পালিয়ে যান সজিব। এছাড়া তিনি ২০০৬, ২০১২, ২০১৪, ২০১৫ সালসহ বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগের হামলাসহ পুলিশী হামলার শিকার হয়েছেন। একের পর এক মামলায় কারাগারে ছিলেন।
সজিব বলেন, একের পর হামলা, মামলা, পুলিশের নির্যাতন সহ্য করেও এখনও ছাত্রদলের রাজনীতি করে চলছি। জুলাই-আগষ্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পিরোজপুরে ছাত্রদের পাশে থেকে আন্দোলন করেছি। আগামীতে শহীদ জিয়ার একজন সৈনিক হিসেবে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রামে থেকে দেশের জন্য কাজ করবো। রাষ্ট্র গঠনে তারেক জিয়ার ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করে যাবো।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial