নাজিরপুরে বখাটেদের উৎপাতে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরে উপজেলায় স্কুল-কলেজের আশেপাশে আশঙ্কাজনক হারে বেডড়েছে বখাটেদের আড্ডা। স্কুল কলেজ শুরু কিংবা ছুটির সময় ছাত্রীদের প্রেমের প্রস্তাব দেওয়াসহ নানাভাবে উত্যক্ত করে চলছে তারা। এদের অনেকেই মাদকাসক্ত। এদের হাত থেকে রক্ষা পেতে অনেক ছাত্রীর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় ছাত্রীরা অসহায় হযয়ে পডড়েছে। উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তাদের অভিভাবকরা। তারা বখাটেদের উৎপাতরোধে স্কুল-কলেজের সামনে টহল পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
জানা যায়, নাজিরপুর উপজেলা শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত। এ উপজেলায় নি¤œ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৭টি। ফাজিল, আলিম ও দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে ১৩টি। মহাবিদ্যালয় রয়েছে ১০টি।
সারাদেশের মধ্যে প্রতি বছর এ উপজেলা থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকে। কিন্তু বখাটেদের উৎপাতে লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে।
সরেজমিনে বেশ কয়েকটি স্কুল ও কলেজ ঘুরে দেখা গেছে, এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ ফটকের সামনে ও আশেপাশে ছোট ছোট দলে আড্ডা দিচ্ছে কিশোর বয়সি ছেলেরা। ছাত্রীরা আসা মাত্রই তাদের লক্ষ্য করে নানা মন্তব্য ছুড়ে দেয়। মেয়েরা দ্রæত মাথা নিচু করে বিদ্যালয়ের ভিতর প্রবেশ করে।
দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, বাইরের ছেলেরা বিদ্যালয়ের আশেপাশে আড্ডা দিয়ে থাকে। তাদের বেশি কিছু বলা যায় না। বলতে গেলে সংঘবদ্ধ হয়ে তেড়ে আসে।
এদিকে, উপজেলার সনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শ্রীরামকাঠি ইউ.জে.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে আড্ডা দিচ্ছিল বেশ কয়েকজন কিশোর ও যুবক। আড্ডা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তাদের মধ্যে একজন জানান কলেজের এক বন্ধু এই এলাকায় থাকে। তার সঙ্গে দেখা করতে এখানে এসেছে তারা।
স্কুল ছুটির পরে মেয়েকে বাসায় নিতে এসেছেন কয়েকজন অভিভাবক। এ প্রসঙ্গে তারা জানান, প্রতিদিন সকালে ও দুপুরে স্কুলের আশেপাশে বসে বখাটেদের আড্ডা। এ কারণে আমরা মেয়েদের একা স্কুলে পাঠাতে সাহস পাই না। বখাটেরা প্রথমে মেয়েদের প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হলে তারা বিভিন্নভাবে হুমকিও দিয়ে থাকে। স্কুল-কলেজের সামনে টহল পুলিশের ব্যবস্থা করলে বখাটেদের উৎপাত কমবে বলে তারা জানান। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তারা মন্তব্য করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমানে আমাদের স্কুলের সামনে এমন ছেলেরা আছে যাদের কারণে আমাদের অপ্রীতিকর অবস্থায় পরতে হয়। তাদের জন্য আমাদের ঠিকমত স্কুলে যাতায়াত করতে অসুবিধায় পরতে হয়। তারা আমাদের দেখে বিভিন্ন ধরনের ইভটিজিং করে ও বিভিন্ন আকার ইঙ্গিত দেয় যা আমাদের জন্য অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করে। আমরা এগুলো থেকে মুক্তি চাই।
এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা জানান, প্রতিষ্ঠানের ভিতরের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তারা। কিন্তু বাইরের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তাদের নেই। এক্ষেত্রে বখাটেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, আমরা সবসময় চেষ্টা করি যাতে স্কুল কলেজের সামনে অযথা আড্ডা না হয়। এখন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে অযথা ঘোরাফেরা করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
