প্রধান সূচি

ভ্রাম্যমান বাসে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ : স্বাবলম্বি হতে পারবে বেকার যুবক-যুবতি

প্রতিষ্ঠান অফিস, আদালত বা কর্মশালা নয়। ঘরবাড়ি, ভবন বা অট্টালিকায় নয়। রাস্তার পাশে বা উম্মুক্ত নিরিরিলি স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা ঝকঝকে একটি এসি বাস। কিছুক্ষণ পরই দেখা গেল কয়েকজন যুবক যুবতি এসে উঠে পড়লেন দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিতে। বসে পড়লেন নিজ নিজ আসনে।
বাসের চালক সুইচ চেপে গেট লক করে চালু করলেন বাসের ইঞ্জিন। তবে বাসের ইঞ্জিন চালু করলেও কিন্তু এক কদমও চলছে না বাসটি। ইঞ্জিন চালু রেখেই বাসটি দাঁড়িয়ে থাকলো ঘন্টার পর ঘন্টা।
আসলে এটি কোন যাত্রীবাহী বাস নয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতাধীন ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এটি। বাসের ভেতরে আসনের সামনে একটি করে রয়েছে কম্পিউটার। সেই কম্পিউটারে বসেই শিক্ষিত যুবক-যুবতিরা নিচ্ছে প্রশিক্ষণ। এমন দৃশ্য চোখে পড়ে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার উপজেলা পরিষদের ভিতরে থাকা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং যুব উন্নয়ন অফিসের সামনে কয়েকটি ফাকা ফাকা মেহগনি গাছের নিচে নির্জন স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিতে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘টেকনোলজি এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টার অন হুইলস ফর আন্ডার প্রিভিলেজড রুরাল ইয়ং পিপল অফ বাংলাদেশ (টেকাব)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ভ্রাম্যমাণ বাসে করে এ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এখানে দুই মাসব্যাপী ৪টি শিফটে মোট ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।


বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে রূপান্তর করতে এবং নিজেকে নিজেই স্বাবলম্বী করতে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ১৮ থেকে ৩৫ বছরের শিক্ষিত যুবক-যুবতিদের মধ্যে নতুন চেতনা আনতেই এমন উদ্যোগ বলে জানান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
নাজিরপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উপজেলায় ৪০ জন শিক্ষার্থীকে ২ মাস মেয়াদি কোর্স হিসেবে এই প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দাঁড়ানো বাসে নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত প্রথম ব্যাচের ১০ জন শিক্ষিত যুবক যুবতি নিজ নিজ আসনে বসে কম্পিউটার চালাচ্ছেন। আর তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন ফারুক আহমদ রিজভী নামের এক প্রশিক্ষক।
প্রশিক্ষক ফারুক আহমদ রিজভী জানান, এখানে গ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত যুবক-যুবতিদের ওয়ার্ড ফাইল, এমএস অফিস, গ্রাফিক ডিজাইন, ইন্টারনেট আউট সাইডসহ নানা ধরণের প্রোগ্রাম শেখানো হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ নিতে আসা শিক্ষার্থী মিলন মল্লিক জানান, যুব উন্নয়নের এমন উদ্যোগে আমরা বেশ খুশি। এখানে বিনা পয়সায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে পারছি।
উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের কমর্কতা মো. মোফাজ্জল আলী খান জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রতিটা ইউনিয়ন থেকে বেকার শিক্ষিত যুবক-যুবতিদের কাছে আবেদন চাওয়া হয়েছিল। তাদের দেওয়া তালিকা ধরে ৫ সদস্য বিশিষ্ট নিয়োগ কমিটি গঠন করে লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক পলক্ষিার মাধ্যমে ২০ জন মেয়ে ও ২০ জন ছেলেকে বাছাই করে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রশিক্ষণের পর তারা একটি করে সনদ পাবে। এ সনদের মান প্রায় ৬ মাসের ডিপ্লোমা কোসের্র মতো। যে কোনো সরকারি বেসরকারি চাকুরিতে তারা এ সনদ দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়াও প্রশিক্ষণ প্রাপ্তরা এ সনদ দেখিয়ে ব্যাংক থেকে অল্প সুদে ঋণও তুলতে পারবেন। যা দিয়ে গ্রামের অবহেলিত যুব সমাজের বেকার সমস্যা দূর করতে পারবে।
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ জানান, ভ্রাম্যমান বাসের মধ্যে স্থাপিত এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে গ্রামের শিক্ষিত অনেক গরীব ও মেধাবী যুবক-যুবতিকে বিনা পয়সায় ভালো মানের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তাদের দুই মাস ধরে এ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এ প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা স্বাবলম্বী হতে পারবে বলে আশা করি।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial