স্বরূপকাঠীতে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা
প্রধান শিক্ষকের বিচারের দাবীতে পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান কর্মসূচি
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের অপমান সইতে না পেরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা চেষ্টার ঘটনায় শিক্ষকের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকের পক্ষে পাল্টা কর্মসূচিও পালন করেছে আরেকটি পক্ষ।
মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় ৫ শতাধিক মানুষ বিদ্যালয়ের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এসময় বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক গ্রীন তালুকদারের বিচার দাবি করেন। অন্যাথায় তারা পরবর্তীতে বড় ধরণের কর্মসূচিতে যাবেন বলে ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে, ওই বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুগত শিক্ষার্থীরা পাল্টা কর্মসূচি পালন করেন। এ সময়ে বিদ্যালয়ের সামনে প্রধান শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে কিছু বহিরাগত লোক হট্টগোলের সৃষ্টি করে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের আশপাশে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণিতে পড়ে।
ওই শিক্ষার্থীর বড় বোন অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে একটি অভিভাবক সমাবেশ চলছিল। সভায় প্রধান শিক্ষক গ্রীন তালুকদারের বক্তব্যকালে বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেনির শিক্ষার্থী তার বোন একটু অমনযোগী ছিল। এতে প্রধান শিক্ষক গ্রীন তালুকদার তার বোনকে কটাক্ষ ভাষায় অপমান করেন। পরে তার বোন শিক্ষকের অপমান সইতে না পেরে ক্লাশে ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এ ঘটনার বিচার দাবিতে মঙ্গলবার সকালে ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় ৫ শতাধিক লোক বিক্ষোভ করে শিক্ষকের বিচার দাবি করেন।
ওই শিক্ষার্থীর চাচা মো. মোস্তফা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক গ্রীন তালুকদার নিজের দোষ আড়াল করতে বিদ্যালয়ের অনুগত কিছু শিক্ষার্থী দিয়ে পাল্টা মুখোমুখি অবস্থান কর্মসূচি বের করেন। তাতেও ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর পক্ষে অবস্থান নেয়া বিক্ষোভকারিদের থামাতে ব্যর্থ হন প্রধান শিক্ষক গ্রীন তালুকদার। একপর্যায়ে তিনি বহিরাগত কিছু লোক এনে আওয়ামী লীগের গুন্ডা বলে ধাওয়া দেন। এমনকি আমার ভাতিজি সম্পর্কে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন জনের কাছে কুৎসা রটনা করছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক গ্রীন তালুকদারকে না পেয়ে একাধিকবার তাকে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গির আলম জানান, আমি ছুটিতে ছিলাম। আজকে শিক্ষকদের সাথে সভা ছিল। শিক্ষার্থীর অভিযোগ প্রমানিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঐ শিক্ষার্থীর সাথে অশোভন আচরণ করার কারণ জানতে চেয়ে প্রধান শিক্ষকে নোটিশ করা হয়েছে। সে নোটিশের লিখিত জবাব দিয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
