বঙ্গবন্ধু স্বাধীন শক্তিশালী বিচার বিভাগের স্বপ্ন দেখেছিলেন : আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন শক্তিশালী বিচার বিভাগের স্বপ্ন দেখেছিলেন। যেখানে বিচার প্রার্থী জনগণ শুধু ন্যায় বিচার পাবেন। বঙ্গবন্ধু শুধু এই স্বপ্নই দেখেননি বাংলাদেশকে তিনি স্বাধীন করার পর একটি আইনি কাঠামো তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট নৃশংস হত্যাকান্ডের পর সামরিক শাসকদের যাতাকলে বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন আর প্রস্ফুটিত হতে পারেনি।
রবিবার দুপুরে সংসদ ভবনের অফিস কক্ষ থেকে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পিরোজপুরের ৮ তলাবিশিষ্ট চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের নতুন ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী মলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিচার বিভাগের সমস্যা দূরকরণে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যার মধ্যে অন্যতম পদক্ষেপ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেসির প্রথম পর্যায়ে ২ হাজার ২৬০ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৪১টি জেলায় আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত নির্মান প্রকল্প। যার মধ্যে পিরোজপুরে ৫৬ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৮তলা ভবন উদ্বোধন করা হলো।
তিনি আরও বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে সুখি সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মান করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতকি অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার সুদক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারনে পদ্মা সেতু কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেল, হজরত শাহজালাল বিমান বন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, এলিভেটেড এক্সেপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় পিরোজপুরে আরও উন্নয়ন হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত ১৫ বছরের উন্নয়নের গতি, প্রকৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে দেখা যায় তিনি অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে সংসদ ভবনের অফিস কক্ষ থেকে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৮ তলা বিশিষ্ট পিরোজপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন।
পিরোজপুর প্রান্তে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আইনমন্ত্রী আনিসুর হক উদ্বোধন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সম্মেলন কক্ষে স্থাপিত (অস্থায়ী) উদ্বোধনী ফলক উন্মেচন করেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিম, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দিন মহারাজ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়ক (যুগ্ম সচিব) বিকাশ কুমার সাহা ও জেলা জজ মোহাম্মদ মোক্তাগীর আলম।
আইন ও বিচার বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আরও বক্তব্য রাখেন, পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিম, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দিন মহারাজ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত প্রকল্পের প্রধান সমন্বায়ক (যুগ্ম সচিব) বিকাশ কুমার সাহা, জেলা জজ মোহাম্মদ মোক্তাগীর আলম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খান মো. আলাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এম ডি আউয়াল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাস প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ভবনের কাজ বাস্তবায়ন করেছে গণপূর্ত বিভাগ। ৮ তলা এই ভবনে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে এজলাস কক্ষ সংকটের সমাধানের পাশাপাশি বিচারকার্যে গতি বাড়বে বলে মনে করেন আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীরা।
বিচারক, আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীদের সুবিধার জন্য এখানে রয়েছে ২২টি এজলাস, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ৫০০ কেভি সাবস্টেশন, অত্যাধুনিক ৩টি লিফট, অত্যাধুনিক লাইব্রেরি, কনফারেন্স রুম, ব্রেষ্ট ফিডিং কর্নার, নামাজের কক্ষ এবং বিচারকদের খাস কামরা। এছাড়াও নবনির্মিত ভবনে রয়েছে নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক হাজতখানাসহ প্রয়োজনীয় অফিস কক্ষ, অপেক্ষমাণ কক্ষ এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা।
