মঠবাড়িয়ায় ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় চলতি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (মূল্যায়ণ) পরীক্ষায় অবতীর্ণ শিক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে শহরের ৫৬ নম্বর মঠবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫০ জন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা হারে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকদের পরীক্ষার ফলাফলে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার নামে অভিভাবকরা এ অর্থ প্রদান করেছে বলেও ওই অভিযোগে জানা গেছে। শুধু এ বিদ্যালয়েই নয় উপজেলার বেশীরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদায় অনুষ্ঠানের নামে অর্থ আদায় করা হয়েছে। সেই সাথে শিশুদের শিক্ষক কর্তৃক চাপ প্রয়োগ করে প্রাইভেট পড়ানের অভিযোগ রয়েছে। আর এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ভুক্তভোগী অভিভাবকদের সূত্রে জানা গেছে, শহরের ৫৬নং মঠবাড়িয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫০ জন শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের কথা বলে গত কয়েকদিন ধরে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে শ্রেণী শিক্ষকরা ২০০ টাকা করে আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। সদ্য সমাপ্ত ৫ম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা (মূল্যায়ন) শেষে মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয় মিলনায়াতনে বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওই বিদায় অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রধান অতিথি ছিলেন। যদিও প্রধান অতিথি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উপদেশমূলক বক্তব্য দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি জানেন বলে জানায়।
শিক্ষার্থী অভিভাবক ব্যবসায়ী মাসুদ গাজী অভিযোগ করেন, আমরা অসহায়। আমার মেয়ের কারণে আমিও শ্রেণী শিক্ষকের কাছে ২০০ টাকা দিয়েছি।
টিএন্ডটি রোডের বাসিন্দা অপর এক অভিভাবক মো. মোজাম্মেল হোসেন অভিযোগ করেন, ২০০ টাকা করে নিলেও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শুকনো মিষ্টি, ছামুছা ও কেকসহ প্লাষ্টিকের বক্স বাবদ ৪০/৫০ টাকাও খরচ করেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ।
আরেক অভিভাবক ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী অনার্স কলেজে সহকারী অধ্যাপক শিল্পী মিত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ অর্থ আদায়ের অন্যায় এ বিষয়ে আগ থেকেই ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, শুধু এটাই নয় ওই বিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক যারা শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান তাদের গিফট দেয়ার জন্য কিছু অতি উৎসাহী অভিভাবকদের মাধ্যমে ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। যা সত্যিই দু:খজনক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাইনুল ইসলাম এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি। তবে তিনি ২০০ টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন আমরা অনুষ্ঠানের ব্যানার দিয়েছি এবং মিষ্টি মুখ করিয়েছি। আর অভিভাবকরা ছামুচা ও কেকসহ প্যাকেট দিয়েছে। এর সাথে আমাদের সম্পৃক্ততা নেই।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, আমি বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উপদেশমূলক বক্তব্য দিয়েছি। তবে টাকা নেয়ার বিষয়টি জানা নেই।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কুমারেশ চন্দ্র গাছি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে অনুষ্ঠান করা ও গিফট নেয়ার বিষয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
