বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের দাবী আদায়ে সংবাদ সম্মেলন
ক্যাডার কম্পোজিশনের সুরক্ষা, পদোন্নতি, পদ সৃজন, বেতন স্কেল আপগ্রেডেশন ও আন্ত:ক্যাডার বৈষম্য নিরসনসহ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের দাবীসমূহ আদায়ে পিরোজপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পিরোজপুর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়- শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি, ক্যাডার বৈষম্য নিরসনে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিলেও প্রশাসন ক্যাডারের মুষ্টিমেয় কিছু কর্মকর্তার কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাদের কারণে শিক্ষা ক্যাডার বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তারা সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাতে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, দুই বছর দরে শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। শিক্ষা ক্যাডারের ১৬ হাজার কর্মকর্তা সরকারের ভিশন-২০৪১ তথা ষ্মার্ট বাংলাদেশ বির্নিমানে লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। এরমধ্যে পদোন্নতিযোগ্য অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অথ্যাপকসহ ৭ হাজার কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের পদোন্নতি বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের দাবিসমূহ আদায়ের লক্ষে আগামী ২ অক্টোবর সারাদেশে এক দিনের কর্ম বিরতি পালন করা হবে। দাবি পূরণের অগ্রগতি না হলে ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর সারাদেশে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাবৃন্দ তিন দিনের কর্মবিরতি পালন করবে।
দাবি আদায়ের বিষয়ে সাধারণ শিক্ষা সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি (বরিশাল অঞ্চল) প্রফেসর গোলাম মোস্তফা বলেন, শাসন বিভাগীয় ২৬ ধরণের কাজের জন্য ২৬টি ক্যাডার বিদ্যমান। এই সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়গুলোর সহকারী সচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব পদ প্রশাসন ক্যাডারের হলেও উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত পদগুলো ২৬টি ক্যাডারের। কিন্তু দু:খের বিষয় যে স্বাধীনতার পর পৃথিবীর অন্যান্য সকল দেশের মত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘ক্যাডার যার মন্ত্রণালয় তার’ এই নীতিতে দেশ পরিচালনা করলেও বর্তমানে বাংলাদেশে প্রত্যেকটা ক্যাডারের মন্ত্রণালয়, শিডিউল পদ, সুযোগ সুবিধা কেড়ে নিচ্ছে একটি বিশেষ ক্যাডার। এখন পদোন্নতি, পদ সৃজনের মত স্বাভাবিক বিষয় নিয়েও আমাদের আন্দোলন করতে হয়। টেকসই উন্নয়নের জন্য ক্যাডার বৈষম্য দূর করে কৃত্য পেশা ভিত্তিক মন্ত্রণালয়ের বিকল্প নেই।
সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষা সমিতির পিরোজপুর মহিলা কলেজ ইউনিট কমিটির সভাপতি কাউছার কবিরুল ইসলাম, সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজ কমিটির সভাপতি মাসুদ আহমেদ, সহ-সভাপতি সমরজিৎ হাওলাদার, সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজ শিক্ষক কাউন্সিলরের সম্পাদক মো. হাবিবুল্লাহসহ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, কলেজ ইউনিট কমিটির নেতৃবৃন্দ ও জেলার বিভিন্ন সরকারী কলেজের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
