ইউনিয়ন পরিষদের ভবনে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় !
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে ইউনিয়ন পরিষদের পরিত্যক্ত ভবনে দলীয় কার্যালয় করেছে আওয়ামী লীগ ও ৪টি সহযোগী সংগঠন।
উপজেলার ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের পরিত্যক্ত ভবনের দ্বিতীয় তলায় একযোগে উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের দলীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড সাটানো হয়েছে। সেখানে থাকা চারটি রুমে তাদের কার্যালয় হিসাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে এ বিষয় কিছুই জানে না ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো. মতিউর রহমান কাইউম। তিনি বলেন, কারা কিভাবে সাইনবোর্ড টানিয়ে অফিস করছে তা তার জানা নেই। ইউনিয়ন পরিষদকে অবহতিও করেনি। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ন হওয়ায় আমরা ওখানে কার্যক্রম না করে অস্থায়ীভাবে মুক্তিযোদ্ধা ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
একটি সুত্রে জানা যায়, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০২১ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় । ঐ ভবনে নিচ তলায় ৫টি রুম রয়েছে। তবে এসব রুম বিভিন্ন মেয়াদে ভাড়া দেওয়া অগ্রিম টাকা না পাওয়ার কারণে রুমের ভাড়াটিয়ারা অন্যত্রও যেতে পারছে না। তাই তারা ঝুঁকি মাথায় নিয়ে উক্ত ভবনে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের নিচতলার ৫টি রুম ইউপি চেয়ারম্যান বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিয়ে দিয়েছে। তবে ভাড়ার টাকা ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেয় নি।
এদিকে, পরিষদের পরিত্যক্ত ভবনের দি¦তীয় তলায় এক সপ্তাহ আগে আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড সাটানোয় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে ভাড়া ঘরে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ছিল। দুই বছরের বেশী সময় ধরে ওই অফিসে কার্যক্রম চললেও হঠাৎ ওই অফিসটি ছেড়ে দেয় দলটি। এরপরেই দলটির অফিস করা হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের জায়গায়।
ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ করিম ইমন জানান, আমি এলাকায় ছিলাম নাঅ ইউনিয়ন পরিষদের ভবন দখল করে সরকারের ভার্বমূর্তি নস্ট করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সেখানেও যদি ব্যবস্থা না পাই তাহলে জেলা প্রশাসকের কাছে যাবো।
পরিত্যক্ত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আওয়ামী লীগের কার্যালয় নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান সেলিম হাওলাদার কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন্নেসা খানম জানান, সদর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সকল কার্যক্রম মুক্তিযোদ্ধা ভবনের দ্বিতীয় তলায় পরিচালিত হচ্ছে। পরিষদের পরিত্যক্ত ভবনে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ এনে সদর ইউনিয়নের চেয়াম্যান একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এই ব্যাপারে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
