পিরোজপুরে গণপিটুনিতে চোর নিহত
পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের পূর্ব বাদুরা গ্রামে গণপিটুনিতে কবির মৃধা (৩৭) রামে এক চোর নিহত হয়েছে। কবির একই ইউনিয়নের দক্ষিন বাদুরা গ্রামের কাদের মৃধার ছেলে। বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার বাঁদুরা গ্রামে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। চুরি করতে গিয়ে এলাকাবাসীর হাতে ধরা খেয়ে গণপিটুনির শিকার হন কবির মৃধা।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে শংকরপাশা ইউনিয়নের পূর্ব বাদুরা গ্রামের মোশাররফ হোসেন মৃধার বাড়িতে চুরি করতে যায় নিহত কবির। চুরির উদ্দেশ্যে কৌশলে সে ঘরের দরজা খুলে মোশাররফ হোসেন মৃধার ছেলে পনির মৃধার ঘরে ঢুকে। এসময় পনিরের স্ত্রী শাহিদা চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে জেগে উঠে। তখন চোরকে ধরতে গেলে সে (কবির) শাহিদার উপর হামলা করে। তার ডাক চিৎকারে শাহিদার স্বামী পনির জেগে উঠলে কবির তাদের দুইজনকে মারধর শুরু করে এবং তাদেরকে কামড়ে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে ঘরের মধ্যে কবিরকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। ঘটনাস্থল থেকে লোহার শাবলসহ চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
শুক্রবার ভোরে আহত কবিরকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নেয়ার পথে পিরোজপুর-পাড়েরহাট সড়কের মল্লিকবাড়ি নামক স্থানে তার মৃত্যু হয়।
চোরের হামলায় আহত পনির এবং তার স্ত্রীর শাহিদাকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করছে।
পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান জানান, কবির চুরির উদ্দেশ্যেই রাতে ওই বাড়িতে গিয়েছিল। তবে পিটিয়ে হত্যার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শংকরপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন মল্লিক স্বপন জানান, চোর ধরা ও গণপিটুনির দেওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থালে চকিদার ও দফাদার পাঠিয়ে আহত চোরকে উদ্ধার করা হয়। পরে থানায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, নিহত কবির ওই এলাকার একজন দুর্ধর্ষ চোর ছিল।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি আ. জ. মো. মাসুদ্দুজ্জামান জানান, গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার বিষয়ে আইনী বিষয় প্রক্রিয়াধীন। নিহত কবির একজন সে আন্ত:জেলা চোর। তার বিরুদ্ধে পিরোজপুর সদরসহ বিভিন্ন থানায় ৬টি চুরির মামলা রয়েছে।
