দামে চাষীদের মুখে হাসি থাকলেও মনে শঙ্কা
কাউখালীতে জমে উঠেছে সুপারির হাট
সুপারির জন্য বিখ্যাত উপকূলীয় পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা। এ উপজেলার লোকজনের সারাবছরের আয়ের বড় অংশ আসে সুপারি বিক্রি থেকে। প্রতিবছরই এখান থেকে প্রচুর পরিমাণে সুপারি সারাদেশে ছড়িয়ে যায়। ইতিমধ্যে কাউখালে জমে উঠেছে সুপারি কেনা-বেচার হাট। এবার সুপারির দাম ভাল হলেও ফলন নিয়ে শঙ্কার মধ্যে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
অর্থকারি ফলন সুপারির ফলন কম হওয়ায় বাগান মালিকদের মুখে হাসি না থাকলেও বাজারে সুপারির দাম বেশি পাওয়ায় খুশি। প্রাকৃতিক নানান দুর্যোগ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে সুপারির ফলন তথা উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়তে হবে কৃষকদের।
কাউখালী উপজেলায় ব্যাপক হারে সুপারির চাষ হয়ে আসছে। এখনকার সুপারি মানে ভাল বলে সুপারির বানিজ্যিক বাজার গড়ে উঠেছে। এবার এ উপজেলায় সুপারির গত বছরের তুলনায় কম হয়েছে। তবে সুপারির বাজার চড়া থাকায় চাষীরা সুপারিতে ভাল দাম পাচ্ছেন। তবে আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় হতাশ পড়ছেন চাষীরা।
স্থানীয় সুপারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা যায়, কাউখালী উপজেলার ৫টি ইউনিয়নেই উৎপাদন হয় সুপারির। একসময় সারাদেশে সরবরাহ করা হতো কাউখালীর সুপারি। তবে সেই অবস্থা না থাকলেও এখনো প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে সুপারি কাউখালী থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এবার সুপারির ফলন নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়তে হচ্ছে সুপারি উৎপাদকদের।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, সুপারি একটি অর্থকরি ফসল। আপদকালীন সময়ে সুপারি বিক্রি করে সংসরের চাহিদা মিটছে অনেক কৃষকের। সুপারির চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেকেই এখন সুপারি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকার পাকা ও শুকনো সুপারি কেনা-বেচা হয় কাউখালীতে। ফলে এখানে গড়ে উঠেছে সুপারির বানিজ্যিক বাজার। উপকূলের সুপারির সবচেয়ে বড় মোকাম কাউখালী। দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা সুপারি নিয়ে বিক্রির জন্য কাউখালী শহরে গড়ে উঠা সুপারির হাটে আসেন। এখানে প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও শুক্রবার দুই দিন সুপারির হাট বসে।
তবে শুকনো সুপারির পিক মওসুম ফাল্গুন থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত এবং কাঁচা সুপারির পিক মওসুম শ্রাবণ থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত। এ সময় বেশির ভাগ সুপারি ক্রয়-বিক্রি হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সুপারি কিনে ভারতসহ দেশের বিভিন্নস্থানে পাঠান। আবার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরাও এখানে আসেন সুপারি কিনতে। কাউখালী থেকে নিয়মিত সুপারি সংগ্রহ করেন। এখান থেকে প্রায় প্রতিদিন লঞ্চ, ট্রলার ও ট্রাক বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায় সুপারি।
কাউখালীর বাজারের সুপারি ব্যবসায়ী মন্টু হোসেন জানান, কাউখালীতে প্রতি হাটে প্রায় অর্ধকোটি টাকার পাকা ও শুকনো সুপারির কেনা-বেচা হয়। প্রতি বছর এই মৌসুমে বিভিন্ন হাট থেকে সুপারি কিনে মজুদ করে থাকে। শুকিয়ে ও পানিতে ভিজিয়ে সুপারি সংরক্ষণ করা হয়। পরে তা দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। এ সুপারি এলসির মাধ্যমে ভারতে যাচ্ছে।
তিনি জানান, গত মৌসুমে সুপারির দাম ছিল অনেক ভাল। এবারও সুপারির দাম বাড়তির দিকে। বর্তমান মৌসুমে ২১ ঘা (২১০টি) বা এক কুড়ি কাঁচা সুপারির দাম শ্রেণী ভেদে ৪৬০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত মৌসুমের তুলনায় অনেক বেশী।
কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আজিম শরিফ বলেন, কাউখালীর মাটি এবং আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ কারণে এখানকার সুপারি আকারে অনেক বড় এবং সুস্বাদু হয়।
