নাজিরপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জের
বড় ভাইয়ের হামলায় আহত ছোট ভাইয়ের সাংবাদ সম্মেলন
পিরোজপুরের নাজিরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বড় ভাইয়ের নেতৃত্বে ভাড়াটে লোকজন দিয়ে ছোট ভাই এবং মাকে আহত ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছে আহত ছোট ভাই স্বরুপ কুমার ভক্ত।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নাজিরপুর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সাংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে স্বরুপ কুমার ভক্ত বলেন, আমার বড় ভাই তাপস কুমার ভক্ত একজন আইনজীবী। ২০১২ সালে আমার বাবা মৃত্যুর পর সে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে একা ভোগ দখলের জন্য তার পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাকে এবং আমার মা-লক্ষী রানী, বোন স্বপ্না ও শ্যামলী ভক্তের উপর বিভিন্ন সময় হামলা করে আসছে। আমি ঢাকা থেকে বাড়িতে আসলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় বড় ভাই তাপস। আমি বাড়িতে আসলে মঙ্গলবার রাতে আমার সুপারি বাগানে বড় ভাইয়ের চোর চক্রের সদস্যরা সুপারি চুরি করতে আসে। কিন্তু আমার উপস্থিতি টের পেয়ে তারা গামছা, দেশীয় অস্ত্র কোচ, গাছ থেকে পাড়া সুপারি রেখে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। তাদের ফেলে যাওয়া মালামাল পরদিন বুধবার সকালে স্থানীয় মহসিনের চায়ের দোকানে উপস্থিত লোকজনকে দেখালে আমার বড় ভাই ক্ষিপ্ত হয়। পরে আমি চায়ের দোকান থেকে ফেরার পথে আমার ভাইয়ের নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য এসকেন্দার মিনার ছেলে রাশেদুল মিনা, মৃত আজিজ হাওলাদারের ছেলে সহিদ হাওলাদার, সোহরাব সেখের ছেলে এমদাদুল সেখ, দুলাল মাঝির ছেলে মিজান মাঝি, কাসেম সেখের ছেলে জুম্মান সেখসহ অজ্ঞাত আরো ৭/৮ জন আমার উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করলে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এসময় আমাকে বাচাঁতে আসলে হামলাকারীরা আমার বৃদ্ধ মাকেও আহত করে। স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। ঘটনার পর এসআই রিয়াজুলসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এর আগে গত বছর (২০২১) ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে বাড়ীর সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে তাপস ভক্তের নেতৃত্বে তার ভাড়াটিয়া বাহিনী হামলা চালিয়ে আমার মা ও বিধবা বোনকে আহত করে। সে ঘটনায় নাজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরুপ কুমার বলেন, আমি চাকরীর সুবাদে ঢাকায় থাকি। আমার আরেক বোন শ্যামলী থাকে ভারতে। বাড়ীতে আমার বিধবা মা, বিধবা ছোট বোন স্বপ্না থাকে। এই সুযোগে পৈত্রিক প্রায় ৩ একরেও বেশী সম্পত্তি একাই গ্রাস করার জন্য আমার বড় ভাই তাপস কুমার ভক্ত আমার পিতার স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া দলিল তৈরী করে। এর পর ১/১৬ নং প্রবেট মামলা দিয়ে হয়রানী করে। পরে নিজের পরাজয় বুঝতে পেরে গোপনে মামলা তুলে নেন।
সাংবাদ সম্মেলন স্বরুপ কুমার ভক্ত ছাড়াও তার মা মা লক্ষী রানী, বোন স্বপ্না ভক্ত, মামা বিমল চন্দ্র বড়ালসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
