আইনজীবী সহকারি হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন : প্রতিবাদ মিছিল
পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সহকারি সমিতির সদস্য তাজউদ্দিন আহম্মেদকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে এবং আসামিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে এলাকার জনগণ।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পিরোজপুর শহরের টাউনক্লাব সড়কে ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদ মিছিল করে জেলা প্রশাসক এবং জেলা জজ আদালতের সামনে বিক্ষোভ করে নিহত তাজউদ্দিন আহম্মেদের পরিবার ও এলাকার জনগণ।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, তাজউদ্দিন আহম্মেদের পিতা শহিদুল ইসলাম সালাম, তাজউদ্দিন আহম্মেদের স্ত্রী রীমা বেগম, কদমতলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, ইউপি সদস্য রিয়াজ হোসেন উজ্জল, আলী সিকদার, মাওলানা আব্দুল আলীম।
এসময় বক্তারা বলেন, একজন নিরীহ মানুষকে দিনে দুপুরে সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ স্ট্যান্ডে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে সন্ত্রাসীরা। ঘটনার দিন তাজউদ্দিন আহম্মেদ জজ আদালতে নিজের পেশাগত কাজে যাচ্ছিলেন। এসময় সন্ত্রাসীরা তার উপর হামলা করে সাথে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। পরে খুলনায় চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
মানববন্ধনে অভিযুক্ত সন্ত্রাসী আল আমিন সিকদার, স্বাধীন সিকদার, শামীম সিকদার, কামালসহ সকল আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের দাবি জানায় নিহতের পরিবার।
এসময় বক্তরা বলেন, একটি সরকারি কলেজের সামনে এর আগেও অটো টেম্পু স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসন অবগত থাকলেও কোন সমাধানের ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। অটো স্ট্যান্ডটি অবিলম্বে তুলে দেয়ার দাবি জানায় বক্তারা।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ.জ.মো. মাসুদুজ্জামান জানান, ঘটনার বিষয়ে সদর থানায় দায়ের করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। আসামি গ্রেফতারের অভিযান অব্যহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই সকালে জেলা আইনজীবী সহকারি সমিতির সদস্য (মুহরি) তাজউদ্দিন আহম্মেদ সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ মোড়ে অটোস্ট্যান্ডে এলে তাকে হামলা করে পিটিয়ে আহত করে স্থানীয় কতিপয় সন্ত্রাসী। পরে আহত তাজউদ্দিন আহম্মেদ উদ্ধার করে প্রথমে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। খুলনায় হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় গত ৮ জুলাই তার মৃত্যু হয়।
