সিতারা হালিম হত্যাকান্ড
দেড় মাসেও পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি ॥ নেই কোন গ্রেফতার
পিরোজপুর সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম অধ্যাপক আবদুল হালিম হাওলাদারের স্ত্রী এবং ভয়েস অফ আমেরিকার ঢাকা প্রতিনিধি আমির খসরু’র মা সিতারা হালিম (৭৫) এর হত্যাকান্ডের দেড় মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও পুলিশ এ হত্যাকান্ডের কোন রহস্য বের করতে পারেনি। শনাক্ত বা গ্রেফতারও করতে পারেনি কাউকে।
ফলে মায়ের হত্যাকান্ডের বিচার নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন নিহত সিতারা হালিমের ছেলে সাংবাদিক আমীর খসরু। তবে পুলিশ দাবী করছে তারা এই হত্যাকান্ডের কারণ উদঘাটন ও ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।
গত ১৫ মে রাতে পিরোজপুর শহরের সিআইপাড়া এলাকার রায় পুকুর সংলগ্ন নিজ বাসভবনে খুন হন সাংবাদিক আমির খসরু’র মা সিতারা হালিম। পরদিন ১৬ মে সকালে সকালে বাসভবনের দোতলার একটি কক্ষের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা গেছে, এদিন সকাল ৮টার দিকে বাড়িতে রং করার জন্য শহরতলীর খলিশাখালী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস নামের এক শ্রমিক সিতারা হালিমের বাড়িতে যান। তিনি বাড়ির কলিং বেল বারবার বাজালেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাননি। এরপর আব্দুল কুদ্দুস বাড়ির নিচতলায় ভাড়াটেদের বিষয়টি জানালে তারা বাড়ির দোতলার পেছনের দিকে গিয়ে দরজা খোলা পান। তারা খোলা দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকে একটি কক্ষের মেঝেতে সিতারা হালিমের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে নিহতদের মেয়ে ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
এ সময় ঘটনাস্থলে স্যালাইন দেওয়ার পাইপ পাওয়া গেছে। নিহত সিতারা হালিমের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে স্যালাইনের পাইপ দিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর ১৭ মে নিহত সিতারা হালিমের ছেলে আমীর খসরু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে পিরোজপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিতারা হালিম বাড়ির দোতলায় একা থাকতেন। বাড়িতে বিভিন্ন সময়ে পরিচিত লোকজন ও কাজের জন্য শ্রমিকদের আসা-যাওয়া ছিল। তিনি অপরিচিত কোন ব্যক্তির সাথে কথা বলতেন না এবং তাদের বাড়িতে ঢুকতেও দিতেন না। বাড়িতে কেউ গেলে সিতারা হালিম প্রথমে ঘরের দরজা খুলে তারপর কলাপসিবল গেটের তালা খুলতেন। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার দিন রাতে (১৫ মে) পরিচিত কেউ সিতারা হালিমের বাড়িতে যান। তারা রুমে ঢুকে সিতারা হালিমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে পেছনের দরজার তালা খুলে পালিয়ে যান। হত্যাকান্ডের পর আলমারিতে থাকা জামাকাপড় তছনছ করা ও ট্রাংকের তালা ভাঙা পাওয়া যায়। তবে বাড়ি থেকে কি পরিমান নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার খোয়া গেছে তা তার সন্তানেরা জানেন না।
ঘটনার পর পুলিশ রং মিস্ত্রি আব্দুল কুদ্দুস, নিজতলার বাড়াটিয়া, প্রতিবেশীসহ পিরোজপুর সরকারী সোহরাওয়াদী কলেজের ইমাম মাওলানা আলী আহম্মেদকে কয়েক দফা থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
নিহত সিতারা হালিমের ছেলে আমীর খসরু জানান, হত্যাকান্ডের দেড় মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ ঘটনার কোন সুরাহা করতে পারেনি। এতে আমরা আশাহত। তবে আশা করছি আইন শৃংখলা বাহিনী অতি শীগ্রই আমার মায়ের হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারবে। তা’নাহলে সংশ্লিষ্টদের উপর থেকে মানুষের বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যাবে।
পিরোজপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান জানান, সিতারা হালিম হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সিতারা হালিম হত্যাকান্ডের বিষয় নিয়ে পিরোজপুর আইন শৃংখলা বাহিনীর কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে। বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা তদন্ত কাজ করে চলছে। ঘটনার দিন ও রাতে সিআইপাড়া এলাকার মোবাইল টাওয়ারের আওতায় কোন মোবাইল সিম ছিল এবং কারা কথা বলছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া কয়েকজন সন্দেহভাজনকে পুলিশি নজরদারীতেও রাখা হয়েছে।
