প্রধান সূচি

সাংবাদিক আমির খসরু’র মায়ের হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি

পিরোজপুর সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হালিম এর স্ত্রী এবং ভয়েজ অব আমেরিকার সাবেক ঢাকা প্রতিনিধি আমির খসরু’র মা সিতারা হালিম (৭৪) এর হত্যার রহস্য এখনও উদঘাটন করতে পারে নি পুলিশ।
সোমবার সকালে পিরোজপুর শহরের সিআই পাড়াস্থ নিজ বাসভবন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তার গলায় দড়ি জাতীয় বস্তু দিয়ে ফাঁস দেওয়ার চিহৃ রয়েছে। সোমবার বিকেলে পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে রাত ৯টায় সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনের ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ ঐ বাসায় কাজে আসা রং মিস্ত্রি আব্দুল কুদ্দুস এবং ঘটনার রাতে নিহত সিতারা হালিমের সাথে দেখা করতে বাসায় যাওয়া পিরোজপুর সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজ মসজিদের ইমাম মাওলানা আলী আহম্মেদ এবং বাসার ভাড়াটিয়াদের থানায় এনে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এছাড়া পুলিশ ঘটনার রাতে ও সোমবার সকালে মাওলানা আলী আহম্মেদ ও রং মিস্ত্রি কুদ্দুসের গতিবিধি জানতে শহরের বিভিন্ন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা নিরিক্ষা করে চলছে।
এদিকে, সিতারা হালিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিহতের ছেলে সাংবাদিক আমির খসরু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মঙ্গলবার দুপুরে পিরোজপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামরা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, আমি (আমির খসরু) ঢাকা বসবাস করি। আমার দুই বোন বিবাহিত হওয়ায় তারা শ্বশুর বাড়িতে থাকেন। বৃদ্ধ মা সিতারা বেগম একাই আমাদের পৈত্রিক বাড়ির দ্বোতালা বিল্ডিং এর দ্বোতালায় বসবাস করনে। ১৫ মে রাত ৮টা ৫ মিনিট থেকে ১৬ মে সকাল ৯টার মধ্যে কোন এক সময় অজ্ঞাতনামা বিবাদী/বিবাদীরা অসৎ উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়ে আমার মাকে হত্যা করে। ১৬ মে সকাল ৯টার দিকে বাসার নিচতলার ভাড়াটিয়ারা আমার মায়ের কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে ফোনে আমার বোর সারশা আরজুকে জানায়। খবর পেয়ে আমার বোন আরজু বাসায় গিয়ে আমার মাকে মৃত অবস্থায় দেখে অন্যান্য আত্মীয় স্বজনকে জানায়। খবর পেয়ে আমি ঢাকা থেকে পিরোজপুরে চলে আসি। ধারণা করা হচ্ছে আমার মাকে অসৎ উদ্দেশ্যে অজ্ঞাত বিবাদী/বিবাদীরা হত্যা করেছে।
পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) থান্দার খাইরুল ইসলাম জানান, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ চেষ্টা করছে। বাসার ভাড়াটিয়া এবং বাসায় যাতায়াতকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া সন্দেহভাজনদের গতিবিধি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পরীক্ষা নিরিক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে, মঙ্গলবার সকালে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এসময় পুলিশ সপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান জানান, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ চেষ্টা করছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই এর রহস্য উদ্ঘাটনে সক্ষম হবো।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial