বিলুপ্তির পথে দেশীয় ডুমুর
ধান, শষ্য নদী খাল, এমন বিভাগে জন্ম আর তার নাম বরিশাল। বরিশালের পিরোজপুরের নাজিরপুরে বিলুপ্তির পথে দেশীয় ডুমুর। গ্রামের বন-বাদাড়ে জন্ম নেওয়া আমাদের চেনা ডুমুর, খাবার হিসেবে অনেক জায়গাতেই পরিচিত।
নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষকরে গাঁওখালী, শ্রীরামকাঠী, মালিখালী, দেউলবাড়ী দোবরা, কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নে ডুমুর তুলনামূলক বেশি জন্মে। কাঁচা ফল হিসেবে ডুমুর অতি উন্নত সবজি। শুধু ডুমুর বা অন্যান্য সবজির সঙ্গে মিলিয়ে ডুমুরভাজি অথবা এর ভর্তা উপাদেয়। এ ছাড়া ছোট মাছের সঙ্গে ডুমুরের ঝোলও রাঁধা হয়। আর পাঁকা ডুমুরের কথা তো আলাদা। পাকা ডুমুরের জেলি যেন এক অন্যান্য স্বাদে ভরপুর।
ডুমুর গাছ বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী এলাকায় জন্ম বেশি হয়। অযন্ত আর অবহেলায় বেড়ে ওঠা ডুমুর গাছ এখন বিলুপ্তির পথে। নদীর পাড়ে, রাস্তার পাশে এর জন্ম বিশেষ করে এটি কেউ চাষাবাদ করে না কারণ এর গুনাগুন স্থানীয় সাধারণ মানুষদের না বোঝার কারণে আগাছা গাছ মনে করে। আর গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে এ গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে এবং নদী ভাঙ্গনের ফলেও নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষিবিদ বদরুল হায়দার বেপারী বলেন, আমাদের অঞ্চলে ডুমুরের চাষাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন। আস্তে আস্তে এটি বিলিন হওয়ার পথে। বৈদেশিক বাজারে এর চাহিদা প্রচুর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উচিৎ তৃণমূল পর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এর চাষাবাদ বাড়ানো ও বাজারজাত করণের উৎসাহী করা। বাজারে এর চাহিদা থাকলেও স্থানীয় সাধারণ মানুষ এগুলো বোঝে না।
কৃষিবিদ জগৎপ্রিয় দাস বিষু জানান, গুটিবসš,Í ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি ও মূত্র সংক্রান্ত সমস্যা, স্নায়ুবিক দুর্বলতা, মস্তিষ্কের শক্তিবৃদ্ধি, সর্দি-কাশি, ফোঁড়া বা গ্রন্থস্ফীতি (টিউমার) ও স্ত্রীরোগের চিকিৎসায় জগডুমুর কার্যকর।
নাজিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার দ্বিগবিজয় হাজরা বলেন, ডুমুরে প্রচুর পরিমানে আয়রন আছে। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি ও মূত্রসংক্রান্ত সমস্যা সর্দি-কাশি, চিকিৎসায় দেশীও ডুমুর কার্যকর। এলাকার চাষীদের বাড়ীতে দু’একটি গাছ রয়েছে, যা তাদের নিজেদের পরিবারের চাহিদার প্রয়োজনের পরিচর্যা করে। এ উপজেলায় বানিজ্যিকভাবে ডুমুরের চাষাবাদ হয় না, তবে যদি কোন চাষী চাষাবাদে আগ্রহী হয় তাহলে তাদের আমরা পরামর্শ দিবো।
