পাইকগাছায় ইট ভাটার দূষনে বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারের বোরোর আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত
ইট ভাটার দূষণে বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারের বোরো ধান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। লক্ষমাত্রার অর্ধেক পূরন হতে পারে বলে ধারণা করছেন খামার কর্তৃপক্ষ। ইট ভাটার কালো ধোয়া, ছাই, বালি ও তাপের কারণে খামারের ধান ঝলসে গেছে। নিয়মিত ধানের পরিচর্যার পরও ভাটার দূষণের কারণে বোরো বীজ ধান উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
খামার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বরো মৌসুমে খামারের ৫৫ একর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ একর জমিতে ব্রিধান-৭৪, ১৩ একর জমিতে ব্রিধান-৬৭, ৫ একর জমিতে বিনা-২৪ ও ২১ একর জমিতে বিনা- ৫০।
খামার সংলগ্ন ইট ভাটা এফএফবি ও এমএমবি ব্রিকস অবস্থিত। ইট ভাটা সংলগ্ন খামারের ২৯ একর জমির আবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপকূলের লবনাক্ততা, ভাটার কালো ধোয়া, ছাই, বালি ও তাপের কারণে খামারের ধান ঝলসে গেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় ধান সব পেঁকে গেছে। তবে ক্ষেতে গিয়ে ধানের শীষ ধরলে দেখা যায় ধান সব চিটা হয়ে গেছে বা অপুষ্ট রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিধান-৬৭ জাতের বীজ উৎপাদনের লক্ষমাত্র ছিল ১৭ টন ৯৬০ কেজি। সেখানে বীজ উৎপাদন হতে পারে মাত্র ৮ থেকে ১০ টন। আর ব্রিধান-৭৪ জাতের বীজ উৎপাদনের লক্ষমাত্র ছিল ২২ টন ৪৮০ কেজি। সেখানে বীজ উৎপাদন হতে পারে ১০ থেকে ১২ টন। ভাটার কালো ধোয়ায় ধান ও গাছের পাতায় কালো রঙের আবরণ পড়েছে, তাপে পাতা ও ধান ঝলসে গেছে। এমনকি খামারে অবস্থিত নারকেল গাছের পাতাগুলোও কালো আবরণে ঢাকা পড়ছে।
উপকূলের লবনাক্ত এলাকায় বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামার অবস্থিত। প্রাকৃতিক দূর্যোগ, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসকে প্রতিরোধ করে খামারের ফসল উৎপাদন করতে হয়। তার উপর ভাটা সংলগ্ন দুটি ভাটার দূষনের কারণে খামারের ফসল উৎপাদনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
এ ব্যাপারে এফএফবি ব্রিকস এর পরিচালক আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস বলেন, ফার্মের ম্যানেজারের সাথে আমার কথা হয়েছে। ধান কাটা পর্যন্ত ধুলো বালি উড়ে যাতে ক্ষেতে না পড়ে তার জন্য ইতিমধ্যে ফার্মের পাশ দিয়ে উঁচু করে নেট টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ধুলোবালি যাতে উড়ে না যায় জন্য প্রতিদিন পানি স্প্রে করা হচ্ছে। তাছাড়া চলতি মৌসুমে ১৫ দিনের মধ্যে ভাটার ইট পোড়ানো শেষ হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ মো. হারুন জানান, বোরো মৌসুম শুরুতে প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেয়া যায়। অতিরিক্ত পরিচর্যা করায় বরোর আবাদে পরাগয়ন পর্যন্ত খুব ভালো ছিল। ধানে অর্ধেক দুধ আসার পর চাল পুষ্ট হওয়ার আগেই ভাটার দূষণ কালো ধোয়া, অতিরিক্ত তাপ ও বালিতে ধান কুকড়ে যায় ও চিটায় পরিনত হয়। ধান পাকার আগেই দূষণে ধান পেঁকে গেছে। ক্ষেতে নেমে শীষ ধরে দেখলে বোঝা যায় অধিকাংশ ধান চিটা ও অপুষ্ট। বিগত বোরো মৌসুমেও ইট ভাটার দূষণের কারণে শতভাগ সফল উৎপাদন হয়নি। খামারে বরোতে লক্ষ্যমাত্রার ৮৪ শতাংশ বীজ উৎপাদন হয়েছে। এ বছর প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও ভাটার দূষণের কারণে লক্ষমাত্রার চেয়ে অনেক কম বীজ উৎপাদন হবে বলে তিনি ধারণা করছেন। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি মানব সৃষ্ট ইট ভাটার দূষণ থেকে খামারকে সুরক্ষা রাখতে তিনি ইতিমধ্যে খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন।
