মায়ের সাথে শবে বরাতের রোজা রাখা হলনা ছেলের ॥ শ্বশুর বাড়ী থেকে লাশ হয়ে ফিরলো ছেলে
বউ নিয়ে শ্বশুর বাড়ীতে ছিল মো. আরিফুল ইসলাম (২২)। বৃহস্পতিবার সকালে ছেলে আরিফ তার মা শাহনাজ পারভিনকে ফোন দিয়ে বলেছিল, “মা আমি আজকে বাড়ীতে আসবো না। শুক্রবার রাতে আমাদের জন্য খাবার রান্না করে রেখো। একসাথে ভাত খেয়ে শবেবরাতের রোজা রাখবো।” তবে ছেলের সে আশা আর পূরণ হলো না।
শুক্রবার সকালেই মা শাহনাজ পারভিন জানতে পারেন ছেলে শ্বশুর বাড়ীতে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। শুক্রবার শবে বরাতের দিন ছেলের শ্বাশুরি (পুত্রবধূর মা) ফোন দিয়ে বলেন, “বিয়াইন আপনি আমাদের বাড়ীতে আসেন। আপনার ছেলে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।” এ কথাগুলো সাংবাদিকদের সামনে কেঁদে কেঁদে বলছেন ছেলে আরিফের মা শাহনাজ পারভিন। তবে তিনি অভিযোগ করেছেন তার ছেলে কোনক্রমেই আত্মহত্যা করতে পারেনা। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে উপজেলার স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের ভূইয়াবাড়ী রিক্সাষ্ট্যান্ড এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ খবর পেয়ে আরিফের শ্বশুরবাড়ী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তর জন্য পিরোজপুর মর্গে পাঠিয়েছেন। আরিফের বউয়ের নাম সাদিয়া (১৯)। সাদিয়া ওই ওয়ার্ডের ইউনুছ ওরফে ইউনুছ কবিরাজের মেয়ে। আরিফ আরামকাঠি গ্রামের পিয়নবাড়ীর সাইফুর রহমানে ছেলে।
আরিফুল ইসলামের শ্বশুর ইউনুছ হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জামাই আরিফ প্রায়ই নেশা করে আমাদের বাড়ীতে আসতো। এ নিয়ে মেয়ে জামাই এর মধ্যে কলহ বেঁধে থাকতো। ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতে আরিফ নেশা করে আমাদের বাড়ীতে আসে। এ নিয়ে মেয়ে ও জামাইয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে আমি তা মিটিয়ে দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে আমরা সবাই ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমাদের ঘরের আড়ার সাথে জামাই আরিফের গলায় ডেকোরেটরের কাপড় পেঁচানো ঝুলন্ত লাশ।
আরিফুল ইসলামের মা শাহনাজ পারভিন বলেন, ছেলে আমাদের অমতে গেল ছয় মাস হয়েছে বিয়ে করে। পরে তা আমরা মেনে নেই। পুত্রবধূকে খুশি করার জন্য ছেলে বউকে নিয়ে প্রায়ই সময় শ্বশুরবাড়ী থাকতো। তিনি বলেন, আমার ছেলে কখনও নেশা করতো না। নেশা করলে আমি জানতাম। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) এস আই মো. হেমায়েত উদ্দীন জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তর জন্য পিরোজপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না পেয়ে কিছু বলা যাবে না।
