কাউখালীতে সুপারির ফলন ভালো হলেও দাম কম
সুপারির জন্য বিখ্যাত উপকূলীয় পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা। এ উপজেলার লোকজনের সারা বছরের আয়ের বড় অংশ আসে সুপারি বিক্রি থেকে। প্রতিবছরই এখান থেকে প্রচুর পরিমাণে সুপারি সারাদেশে ছড়িয়ে যায়। কিন্তু এবার হাটবাজারে সুপারির ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ উপজেলার হাজার হাজার সুপারি চাষি। গেল বছর ভরা মৌসুমে ভালো দাম পাওয়া গেলেও চলতি মৌসুমের শুরু থেকে স্থানীয় সুপারির বাগান মালিকেরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দু:শ্চিন্তায় পড়েছেন।
এ বছর অর্থকারী ফলন সুপারীর বাম্পার ফলনে বাগান মালিকদের মুখে হাসি ফুটে উঠলেও সেই হাসি মলিন হয়ে পড়েছে হাটবাজারে এসে।
সপ্তাহে প্রতি সোম ও শুক্রবার সুপারির হাট বসে। শুক্রবার সুপারির হাটে গিয়ে দেখা গেছে, এক কুড়ি (২১০টি) বড় সুপারি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায়। অথচ গত বছর এক পণ সুপারির দাম ছিল ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা। গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রি হওয়ায় চাষিরা লোকসানে পড়েছেন বলে জানান।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কাউখালীসহ আশ-পাশের উপজেলার সুপারির খ্যাতি থাকার কারণে দেশ ও দেশের বাইরে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এখানকার সুপারি কিনে ট্রাক, পিকআপ এবং ট্রলার বোঝাই করে সৈয়দপুর, চট্রগাম, চাদঁপুর, খুলনা, বাগেরহাট, গাইবান্দা, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু এবার উত্তরাঞ্চলের ব্যাপারীরা কাউখালীর সুপারি কেনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ভারতের সুপারি দামে সস্তা হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সেটাই কিনে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবারের হাটে কথা হয় উপজেলার বাশুরি গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৪৭) এর সাথে। তিনি বলেন, বিক্রির জন্য দুটি টমটম করে সুপারি নিয়ে এসেছি। আমার মতো আরও প্রচুর বাগানমালিক বিভিন্ন যানবাহনে করে সুপারি নিয়ে আসছেন। গত বছরের তুলনায় ভালো ফলন হলেও দাম পাচ্ছি অনেক কম। এ কারণে লাভ তেমন থাকবে না এবার।
কাউখালীর সুপারির ব্যবসায়ী নাসির ও মোজাম্মেল জানান, এখানকার সুপারির কদর বেশি থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা কাউখালীতে এসে সুপারি কিনে নিয়ে যেতেন। এবার বাইরে থেকে তেমন ব্যবসায়ী না আসায় দাম অনেক কমে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলী আজিম শরীফ বলেন, কাউখালী উপজেলায় সুপারির জন্য বিখ্যাত। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে। এ উপজেলায় অনেকেই এখন সুপারির বাণিজ্যিক বাগান করছেন।
