প্রধান সূচি

মোল্লাহাটে সরকারি রাস্তা দখল করে ভবন নির্মানের অভিযোগ

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে সরকারি রাস্তা দখল করে ভবন নির্মানের অভিযোগ উঠেছে মামুন মোল্লা নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মোল্লাহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দ্য মন্ডল।

জানা গেছে, মোল্লাহাট উপজেলার কোদালিয়া উত্তর পাড়া জামে মসজিদের পাশ থেকে চামার বাড়িরর খাল পর্যন্ত আধা কিলোমিটার একটি কাঁচা রাস্তা রয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে আশপাশের অন্তত ৩০টি পরিবার কোদালিয়া বাজার ও প্রধান রাস্তায় আসেন। কিন্তু কিছুদিন আগে স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মামুন মোল্লা রাস্তাটির অন্তত তিন ফুট দখল করে একটি ভবন নির্মান করেছেন। এলাকারবাসীর আপত্তি স্বত্ত্বেও তিনি ভবনের একতলা নির্মান করেছেন। প্রথম তলার ছাদ, দ্বিতীয় তলার ঝুল বারান্দার অন্তত চার ফুট রাস্তার উপর রয়েছে। যার ফরে স্থানীয়দের চলাচলে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তা থেকে ভবন সরানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা বৃদ্ধ এরাদ আলী শেখ বলেন, রাস্তাটি কাঁচা মাটির হলেও, এলাকাবাসীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই রাস্তা দিয়ে আমরা মসজিদে যাই, বাজারে যাই, শুকনোর সময় ভ্যানে প্রয়োজনীয় মালপত্র বাড়িতে নেই। কিন্তু যেভাবে ভবন নির্মান করা হয়েছে, তাতে রাস্তাটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

স্থানীয় গোলাম রাব্বানি, মো. জুয়েল মোল্লা, মিনা ইয়াছিন, ইব্রাহিম খানসহ আরও কয়েকজন বলেন, এই রাস্তাটি যে কত গুরুত্বপূর্ণ সেটা যারা এখানে বসবাস করে তারাই জানে। যে কোন মূল্যে আমরা রাস্তার উপর থাকা ভবনের অংশ বিশেষ অপসারণ চাই।

তাহেরা খাতুন নামের এক বৃদ্ধ নারী বলেন, রাস্তাটি দিয়ে দীর্ঘদিন আমরা চলাচল করি। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে কাঁদা হওয়ায় একটু কম চলাচল করে মানুষ। সেজন্য ভবন নির্মান করবে সরকারি রাস্তায় ! এভাবে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।

কোদালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ রানা বলেন, মানুষের সুবিধার জন্যই রাস্তা নির্মান করে সরকার। এই রাস্তা আজ কাঁচা আছে, ভবিষ্যতে হয়তো ইটসলিং অথবা পাকা রাস্তা নির্মান হবে। তখনতো এই ভবন অনেক বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব রাস্তার উপর থাকা ভবনের অংশ বিশেষ অপসারণের দাবি জানান তিনি।

ভবনের মালিক মো. মামুন মোল্লা বলেন, আমি কোন সরকারি জমি দখল করিনি। পূর্ব শত্রুতার জেরে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তারপরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা যে সিদ্ধান্ত দিবেন আমি মেনে নিবো।

মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদ হোসেন বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দ মন্ডল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। সরকারি জমি দখল করে কেউ ভবন নির্মান করবে এটা হতে পারে না। সমাধান না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial