পিরোজপুরে গৃহবধুর বিরুদ্ধে মিথ্যা ওয়ারিশ সাজিয়ে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ
পিরোজপুর পৌরসভার রাজারহাট এলাকার এক গৃহবধুর বিরুদ্ধে ভুয়া ওয়ারিশ সাজিয়ে সম্পত্তি দখল ও শ্বশুর বাড়িড়র লোকদের বিরুদ্ধে হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা দেয়ার অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগি একটি পরিবার।
সোমবার দুপুরে পিরোজপুর প্রেসক্লাব ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগি পরিবারের সদস্যরা।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তাদের ব্যবসায়ী ছেলে বিপ্লব সাহা গত বছরের অক্টোবর মাসের ১৯ তারিখে শ্বশুরবাড়ি খুলনায় বেড়াতে গেলে সেখানে তার রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তড়িঘড়ি করে সৎকারের কাজ সম্পূর্ণ করা হয়। ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই পুত্রবধূ ইতি সাহা সম্পত্তি দখল, হয়রানীমূলক মিথ্যে মামলা ও হুমকি-ধামকিসহ নানাভাবে অত্যাচার করে আসছে বলে দাবি প্রয়াত বিপ্লব সাহার পরিবারের। এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সমিতি ও এলাকাবাসীর কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবি করে একাধিকবার বৈঠক করলেও পুত্রবধূ ইতি সাহা কোন সিদ্ধান্তই মানতে রাজি হচ্ছেন না।
এসময় এক প্রশ্নের উত্তরে জেলা ব্যাবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা নকীব বলেন, একাধিকবার তারা সমিতির মাধ্যমে ব্যাপারটি ফয়সালা করার চেষ্টা করেও ইতি সাহার অসহযোগিতার কারণে ব্যর্থ হয়েছেন। সে কোন শালিস ব্যবস্থা মানতে রাজি নন। তিনি বলেন, ইতি সাহা স্বামীর দেনা পাওনা শোধের নামে প্রয়াত স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশ কাউকে কিছু না দিয়ে এবং স্বামীর বিধবা মা শুভ্রা সাহার দেখভাল এবং তার কোন ওষুধপত্রের ব্যবস্থা না করে টাকা-পয়সা সরিয়ে ফেলেছেন এবং মিথ্যা সন্তানের কথা বলে কোর্টে মামলাও করেছেন। তিনি বলেন, একাধিকবার ইতি সাহাকে সন্তানের অথবা গর্ভবতির সার্টিফিকেট আনতে বললেও সে টালবাহনা করে কোন কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়।
এ সময় উপস্থিত স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ড পৌর কাউন্সিলর ও ইতি সাহার প্রতিবেশী শহিদুল ইসলাম সিকদার বলেন, তার কোন সন্তান হয় নি এবং তাদের শারিরীক সমস্যার কারণে সন্তান হবার সম্ভাবনাও ছিল না। তিনি এ ব্যাপারে প্রত্যায়নপত্রও দিয়েছেন বলে জানান। স্থানীয় ভাবে বিষয়টি মিমাংসারও চেষ্টা করেন। কিন্তু ইতি সাহা কোন কিছুই মানতে রাজি নয়।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর কাছে পুত্রবধূর অভিযোগগুলো তুলে ধরে বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
এ ব্যাপরে মোবাইল ফোনে ইতি সাহা সকল কিছু অস্বীকার করে জানান, তার বাড়ি খুলনা জেলায়। ব্যবসার জন্য খুলনা যাতায়াতের কারণে ২০১২ সালে ভালবেসে বিপ্লব সাহার সাথে তার বিয়ে হয়। অনেক ডাক্তার এমনকি ভারতে গিয়েও ডাক্তার দেখানোর পরেও তাদের কোন সন্তান হয় নি। তিনি বলেন, তার মৃত স্বামী বিপ্লব সাহা প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা দেনা রেখে গেছেন, ব্যাংকসহ যার প্রায় সবগুলোরই জামিনদার তিনি। তাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে দেনা শোধ করার চেষ্টা করেন তিনি। তিনি জানান, গত ২২ জুলাই তিনি দোকানে থাকাকালীন শ্বশুর বাড়ির লোকজন দোকানে ঢুকে করে ক্যাশ থেকে টাকা-পয়সা ও দুইটি মোবাইল ছিনিয়ে নেয় এবং পরবর্তীতে রাজারহাটের বাসায় গিয়ে তালা ভেঙ্গে ঘরে থাকা গুরুত্বপূর্ন কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে যায়। এ ঘটনার কারণে তিনি মামলা করেছেন বলে জানান। তিনি জানান, মামলায় সন্তানের কোন কথা তিনি উল্লেখ করেন নি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রয়াত বিপ্লব সাহার বিধাব মা শুভ্রা সাহা, বিপ্লব সাহার বোন পলাশি সাহা, জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা নকীব, মাসুদ খান দোয়েলসহ প্রতিবেশীরা উপস্থিত ছিলেন।
