প্রধান সূচি

মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামাল হোসেন মুফতির বিরুদ্ধে সরকারি টাকা আত্মসাত, স্বেচ্ছাচারিতা, রোগীদের সাথে খারাপ ব্যবহারসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিচার ও তার বদলীর দাবিতে স্থানীয়রা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ থেকে জানা যায়, ডা. কামাল হোসেন মুফতি দীর্ঘদিন ধরে মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  স্থানীয় কিছু অসৎ মানুষদের সাথে নিয়ে তিনি দুর্নীতি-অনিয়মের স্বর্গরাজ্য তৈরি করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে।

অফিস চলাকালিন সময়ে সরকারি কোয়ার্টারে বসে তিনশ টাকা ফি নিয়ে রোগী দেখেন ডা. কামাল হোসেন মুফতি। যার ফলে সাদারন রোগীরা স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে এম.এস আর সামগ্রী খাতে বরাদ্দকৃত ৩৯ লক্ষ ৩৮ হাজার ৯৪৫ টাকা ব্যয় না করে আত্মসাত করেছেন তিনি। স্থানীয় কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে তার গোপন চুক্তি রয়েছে। যার ফলে তিনি রোগীদের অহেতুক টেস্টের পরামর্শও দিয়ে থাকেন। এছাড়াও ভুল চিকিৎসা দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে ডা. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

গত ১৪ জুন মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য পথ্য, খাদ্য সামগ্রী ও কাপড় ধোলাইয়ের জন্য একটি দরপত্র আহবান করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামাল হোসেন মুফতি। চাহিদা অনুযায়ী কয়েকজন ব্যবসায়ী দরপত্র জমা দিলেও টাকা আত্মসাতের জন্য নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরিয়া ট্রেডার্সের নামে কাজ নেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছেন কামাল হোসেন মুফতি। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

দরপত্রে অংশগ্রহণ করা এসএসবি এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী মো. বদরুল আহমেদ খান বলেন, যোগদানের পর থেকে ডা. কামাল হোসেন মুফতি নানা অনিয়ম করে আসছেন। এম.এস আর সামগ্রী খাতে বরাদ্দকৃত ৩৯ লক্ষ ৩৮ হাজার ৯৪৫ টাকা ব্যয় না করে আত্মসাত করেছেন। পথ্য, খাদ্য সামগ্রী ও কাপড় ধোলাইয়ের জন্য দেওয়া দরপত্র তার পছন্দমতো আরিয়া ট্রেডার্সকে দেওয়ার জন্য পায়তারা করছেন। আরিয়া ট্রেডার্সের কোন অস্তিত্বই নেই মোড়েলগঞ্জে। শুধু টাকা আত্মসাৎ নয়, তার স্বেচ্ছাচারিতায় কাঙ্খিত সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন মোড়েলগঞ্জবাসী। আমরা এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিচার চাই।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, যে দরপত্রটি আহবান করা হয়েছে সেটি স্বচ্ছভাবে সম্পূর্ণ করা হচ্ছে। এখানে পক্ষ পাতিত্বের কোন সুযোগ নেই। কিছু লোক আমাকে অন্যভাবে বলেছিল, আমি রাজি না হওয়ায় তারা এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কেএম হুমায়ুন কবির বলেন, আমার কাছে এখনও কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial