ক্ষমতাসীন দলের কোন্দলে সহিংসতা ও মিছিল সমাবেশ
পিরোজপুরে ভীতিকর ও অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে একের পর সহিংস ঘটনা এবং এসব ঘটনার প্রতিবাদে দুই গ্রুপের ডাকা একের পর এক মিছিল সমাবেশে পিরোজপুরে ভীতিকর ও অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে। দুই গ্রুপের মধ্যে বড় ধরণের কোন সহিংস ঘটনা ঘটার আশংকাও করছেন অনেকে।
ক্ষমতাসীন দলের গ্রুপিং এবং নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার থেকে শুরু হয় সহিংসতা। এরপর গত কয়েকদিন স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা, মারধর, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুর, গুলি ও বোমা নিক্ষেপের মতো ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় বিবাদমান দুই গ্রুপের কমপক্ষে ৬ জন আহত হয়। আর এসব ঘটনায় পিরোজপুরে ক্ষমতাসীন দুই দলের এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ করে চলছে। পাল্টাপাল্টি বেশ কয়েকটি মামলাও দায়ের হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছে।
এদিকে, পিরোজপুর শহর ও শহরতলীতে একের পর এক সহিংস ঘটনায় পিরোজপুরবাসীর মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের এসব সহিসংস ঘটনার প্রতিবাদে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি, পবিত্র রমজান মাসে এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্ব মূহুর্তে আবার এদেরই দুই গ্রুপের একের পর এক পাল্টাপাল্টি প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করায় শহরবাসীর মধ্যে অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের উপর গুলি ও বোমা নিক্ষেপসহ কয়েকদিন ধরে ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীদের উপর সন্ত্রাসী হামলা ও বাড়ি ভাংচুর, জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে হামলার প্রতিবাদে এবং আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে শনিবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পিরোজপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পৌর আওয়ামীলীগসহ সহযোগী অংগ সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের টাউন ক্লাব থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দামোদর ব্রিজের উপরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
পিরোজপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মল্লিক স্বপনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান খালেক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট কানাই লাল বিশ^াস, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ ফিরোজ, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এডভোকেট খান মো. আলাউদ্দিন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সিকদার মন্টু, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম মিরণ, জেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক ও পৌর কাউন্সিলর সাদউল্লাহ লিটন, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান মানিক, জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা নকিব, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ন আহবায়ক শহিদুল ইসলাম সিকদার, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুমন, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মজনু তালুকদার, সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বিপ্লব, সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আহমেদ রানা, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহাবুব শুভ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম টিটু প্রমুখ। বিক্ষোভ সমাবেশ পরিচালনা করেন পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ নেতা ইরতিজা হাসান রাজু।
সমাবেশে বক্তরা দলীয় নেতা-কর্মীদের উপর হামলা ও বাড়িঘর ভাংচুরের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবী করেছেন। এছাড়া বক্তারা গত ৫ মে শহরে অনুষ্ঠিত অপর একটি মিছিল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এবং এর প্রতিবাদ জানান।

অন্যদিকে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল এমপি’র বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার এবং পিরোজপুরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদের নেতা-কর্মীদের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে গত বুধবার বিকেলে পিরোজপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
শহরের গোপাল কৃষ্ণ টাউন ক্লাবের স্বাধীনতা চত্বর থেকে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান ফুলু’র নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে উক্ত মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিলাশ চত্বরে এসে শেষ হয়। এখানে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান ফুলু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক শফিউল হক মিঠু, জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর জাহিদ হোসেন পিরু, জেলা যুবলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আহসান, জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হালদার, জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল বসু, জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন, যুবলীগ নেতা আব্দুল আলিম, সাবেক ভিপি সৈয়দ ইমরান হোসেন, সাবেক ভিপি শামীম সিকদার, বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদের জেলার সাধারণ সম্পাদক রাসেল সিকদার প্রমুখ।
সভায় বক্তরা বলেন, পিরোজপুর-১ আসনে গত দুই বছরের উন্নয়ন দেখে একটি বিশেষ মহল ইর্ষান্বিত হয়ে পিরোজপুর-১ আসনের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছে। তারা মুসলিম নারীকে শাখা-সিঁদুর পড়িয়ে হিন্দু বানিয়ে এবং মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে একটি তথাকথিত ভিডিও তৈরী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করেছে। এছাড়া ঐ মহলটি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের উপর একর পর এক সন্ত্রাসী হামলা করে পিরোজপুরে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।
এর আগের দিন মঙ্গলবার বিকেলে হামলা, ভাংচুর, গুলি ও বোমাবাজীর প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
পথসভায় বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউর করিম সিকদার মন্টু, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান মানিক, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মজনু তালুকদার, ব্যবসায়ী নেতা মিরাজ শরীফসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি, পবিত্র রমজান মাসে এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্ব মূহুর্তে ক্ষমতাসীন দলের একের পর এক মিছিল ও সমাবেশে শহরবাসীর মধ্যে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন মহলের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল এবং গ্রুপিং এর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনায় পিরোজপুর অশান্ত হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ ভীতিকর অবস্থার মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে এসব সহিংসতার প্রতিবাদে প্রায় প্রতিদিন শহরজুড়ে ক্ষমতাসীন দলের জনসামাগমের মহড়ার কারণে একটা অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়ছে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষজন।
