প্রধান সূচি

নাজিরপুরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

পিরোজপুরের নাজিরপুরে শুধাশু শেখর হালদার টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রভাষক ও কর্মচারী পদে ১৪ জনকে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে এ নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।
জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া প্রভাষক ও কর্মচারীরা এমপিও তালিকাভুক্ত হয়ে নিয়মিত সরকারী বেতন-ভাতাও ভোগ করে আসছেন। ওই কলেজের অধ্যক্ষ মাখন লাল দাস এ অনিয়ম ও জাল-জালিয়াতির সাথে জড়িত বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া অধ্যক্ষ মাখন লাল দাসের বিরুদ্ধে ওই কলেজের এফডিআরের ১৫ লাখ টাকা অবৈধভাবে উত্তোলন করে আত্মসাৎ অভিযোগসহ একই সময় কাগজে কলমে দুই প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারী বেতন-ভাতা ভোগ করার অভিযোগ রয়েছে।
এসব ঘটনায় কলেজ প্রতিষ্ঠা কালীন সম্পৃক্ত স্থানীয় শোভন সুতার ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে কেন ওই অধ্যক্ষের এমপিও বাতিল হবে না, তা জানতে চেয়ে ওই অধ্যক্ষকে ৭ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে চিঠি দেয়া হয়। দীর্ঘদিনেরও এ ঘটনার কোন প্রতিকার না পেয়ে উক্ত শোভন সুতার গত ৭ অক্টোবর ওই কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কলেজটি প্রতিষ্ঠার পরে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ২০০৪ সালের ৩ জুন ইউএনও’র কার্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রভাষক ও কর্মচারী পদে ৯ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করে রেজুলেশন করেন।
পরবর্তীতে ২০১২ সালের ০২ জুলাই মাখন লাল দাস ওই কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেন কর্তৃপক্ষ। ওই বছরের ৪ জুলাই লিখিতভাবে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন মাখন লাল দাস। ওই সময় তিনি পার্শ্ববর্তী নেছারাবাদ উপজেলার পশ্চিম সোহাগদল শহীদ স্মৃতি বিএম কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ইনডেক্স নং-৮৫০৪৮৬। অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পরেও তিনি দুই প্রতিষ্ঠানের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন এবং দুই প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারী বেতন-ভাতা ভোগ করেছেন।
এছাড়া বর্তমান কর্মস্থল শুধাংশু শেখর হালদার টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও ভুক্তির জন্য ২০০৪ সালের ৩ জুন যে ৯ জনের নিয়োগ চূড়ান্ড করে রেজুলেশন করা হয়েছিলো ওই তারিখ ঠিক রেখে নিয়োগ বোর্ডের সকল সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে ৯ জনের পরির্বতে প্রভাষক-কর্মচারী পদে ১৪ জনের নিয়োগ চূড়ান্ড করে নতুন রেজুলেশন করেন। এমপিওভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তত করা ওই রেজুলেশনসহ কাগজপত্র প্রেরণ করেন। জাল স্বাক্ষরিত কাগজপত্রে এমপিওভুক্ত হওয়া অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মচারী সরকারী বেতন-ভাতা ভোগ করছেন।
তাছাড়া ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর তৎকালীন সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য সাধনা হালদারকে সভাপতি করে ওই কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি অনুমোদন করে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। ওই কমিটিতে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রাখা হয় কৃঞ্চকান্ত মল্লিক ও সুব্রত কীর্তনীয়া নামে দুজনকে, ওই সময় তারা কেহই ওই কলেজের শিক্ষক ছিলেন না। ওই কমিটি অনুমোদনের ১০ দিন পরে তাদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয় অনুমোদিত ওই কমিটি।
এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী কলেজটি প্রতিষ্ঠাকালীন সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, ওয়ারী, ঢাকা শাখায় ১৫ লাখ টাকার এফডিআর করা হয়। ওই টাকাও অবৈধভাবে উত্তোলন করে অধ্যক্ষ মাখন লাল দাস আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগে দাবী করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে অধ্যক্ষ মাখন লাল দাস বলেন, আমি ২০১২ সালের ৪ জুলাই এখানে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করলেও ছুটি নিয়ে পূর্বের প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছি এবং বর্তমান প্রতিষ্ঠানে আমার নামে যে বেতন-ভাতা এসেছে তা আমি উত্তোলন না করে ফেরত দিয়েছি। তাছাড়া ৯ জন বা ১৪ জন নিয়োগ চূড়ান্ত করার সময় আমি এখানে কর্মরত ছিলাম না। তবে একই তারিখের দুটো রেজুলেশন আমি পেয়েছি। ১৪ জনের নিয়োগ চূড়ান্ড করা রেজুলেশনটি ত্রুটিপূর্ণ বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে। ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর অনুমোদিত কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির দুই শিক্ষক প্রতিনিধি ওই সময় কলেজের শিক্ষক ছিলেন না। কমিটি অনুমোদনের পরে তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এফডিআরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এফডিআর যেভাবে ছিলো, সেভাবেই রয়েছে।
কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ১৪ জনের নিয়োগ চূডান্ত করার রেজুলেশনের স্বাক্ষরগুলো সঠিক নয় মর্মে প্রতিয়মান হচ্ছে। তাছাড়া
২০১০ সালের ১০ অক্টোবর অনুমোদিত কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির দুই শিক্ষক প্রতিনিধি ওই সময় কলেজের শিক্ষক ছিলেন না। কমিটি অনুমোদনের পরে তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে এ বিষয়টিরও সত্যতা পাওয়া গেছে। এখন পুরো বিষয়টি তদন্ত করে মূল রেজুলেশনসহ কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial