ধর্ষিতার পিতাকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে চুপ থাকতে বললেন ইউপি মেম্বর !
পিরোজপুরের নাজিরপুরে ধর্ষণের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীর (৭) পরিবারকে বিচারের আশ্বাস দিয়ে ৮ দিন পর ওই ছাত্রীর পিতাকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে চুপ থাকতে বলেছেন এক ইউপি সদস্য। বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর পিতা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের চাঁদকাঠী বাজার সংলগ্ন জিলবুনিয়া গ্রামে। ধর্ষক টুলু মন্ডল (১৫) একই গ্রামের পংকজ মন্ডলের ছেলে।
ধর্ষিতার পিতা জানান, গত ১২ আগষ্ট সন্ধ্যায় তার দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে স্থানীয় চাঁদকাঠী বাজারের এক প্রাইভেট শিক্ষিকার কাছ থেকে প্রাইভেট পড়ে বাড়ীতে ফিরছিলো। এসময় ধর্ষক টুলু মন্ডল তাকে অনুসরণ করে। ওই ছাত্রী চাঁদকাঠী বাজার সংলগ্ন ব্রীজের কাছের মোকসেদ মাস্টারে ভাড়া দেয়া টিনসেট ভবনের কাছে আসলে ধর্ষক তাকে মুখ চেপে ধরে ওই ঘরের বাথরুমে নিয়ে যায়। এসময় ওই ঘরের ভাড়াটিয়া নির্মল স্বর্নকার বাসায় ছিলেন না। বাথরুমে ঢুকিয়ে ওই ছাত্রীর পরনের প্যান্ট খুলতে চাইলে সে চিৎকার করে। এসময় ধর্ষক ওই ছাত্রীর মুখ চেপে তাকে ধর্ষণ করে। এতে সে রক্তাক্ত হলে তাকে চিকিৎসার জন্য নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখান থেকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে পাঠালেও এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় সুনিল বেপারী, রব বাড়ৈ, লিটন মেম্বার বিষয়টি মামলা না করে মিমাংসা করে দেয়ার জন্য চাপ দিয়ে সেখানে যেতে দেয়নি। কিন্তু পরে গত বুধবার স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন বিশ্বাস ওই ছাত্রীর পিতাকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে চুপ থাকার জন্য মিমাংসার চাপ দিচ্ছে।
তবে ইউপি সদস্য লিটন বিশ্বাস এমন অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, শুরু থেকেই তিনি ওই ছাত্রীর পিতাকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মুনিরুল ইসলাম জানান, এ ধরনের কোন ঘটনা তিনি জানেন না বা কেউ অভিযোগও করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
