কাউখালীতে জোয়ারের পানিতে ৩০ গ্রাম প্লাবিত
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ, অমাবস্যা এবং ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে পিরোজপুরের কাউখালীর সন্ধ্যা, কালীগঙ্গা, কচাঁ ও গাবখান নদীর পানি অস্বাভাবিক জোয়ারে বৃদ্ধি পেয়ে দু’দিন ধরে অন্তত ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারে তেলিয়ে গেছে হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। পনিতে ডুবে গেছে বেকুটিয়া, সোনাকুর, আমরাজুড়িসহ তিনটি ফেরি ঘাটের গ্যাংওয়ে এবং স্টীমার, লঞ্চ ঘাটের রাস্তা।
ভেসে গেছে পুকুর ও ঘেরের মাছ। এছাড়াও কাঁচা ঘর-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। পানির তোড়ে বিভিন্ন সড়ক ভেঙ্গে গেছে। পানিবন্দি হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ।
গত বুধবার দুপুর থেকে জোয়ারের পানি বাড়তে থাকে। আজ বৃহস্পতিবার নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুট বেড়ে যায়। হাজার হাজার পরিবার এখন জোয়ার আতঙ্কে। একইভাবে গত ৭ আগস্টের কয়েক দফা জোয়ারে ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। ফসলি জমি, মাঠ পেরিয়ে পানি ঢুকে পড়ে বসতঘরে। কাউখালী-স্বরূপকাঠী সড়কের বিভিন্ন স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে।
অপেক্ষাকৃত নিচু জমিতে বেশি পানি জমে যাওয়ায় রোপা আমন নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বর্ষাকালীন সবজির ক্ষেতে পানি জমে অনেক স্থানে পঁচে গেছে ক্ষেতের ফসল। 
সরেজমিনে দেখা গেছে, অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চল তলিয়ে গেছে। সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের বেতকা, সয়না, ধাবরী, শীর্ষা, আমরাজুড়ির সোনাকুর, হরিণধারা, আশোয়া, গন্ধর্ব, শিয়ালকাঠীর জোলাগাতি, ফলইবুনিয়ার বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে গ্রামের পার গ্রাম তলিয়ে গেছে।
সবজি চাষি মো. জাহাঙ্গীর জানান, তার দু’বিঘা জমিতে বর্ষাকালীন সবজি রয়েছে। এতে পানি জমে ক্ষেতের অধিকাংশ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এলিজা সাঈদ ঝুমুর বলেন, জোয়ারের পানিতে আমার ইউনিয়ন এখন ডুবে আছে। রাস্তা ঘাটে চলাচল করা যায় যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অতি জোয়ারে ডুবে যাওয়া কাউখালীর বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. খালেদা খাতুন রেখা। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রফিকুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জি.এম সাইফুল ইসলাম।
কাউখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিঞা মনু জানান, জোয়ার এলেই কাউখালীর নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চল ডুবে যায়। অস্বাভাবিক জোয়ারে দু’দিন ধরে উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পানির নিচে। এতে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
