শরণখোলায় ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলে নির্যাতনের অভিযোগ ॥ নগদ টাকা ও ইলিশ লুট
চাঁদার দাবীতে সুন্দরবনে এক জেলের উপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। রবিবার বিকেলে পুর্ব সুন্দরবনের কটকা ষ্টেশনের আওতাধীন দুধমুখী নদীর বালির খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নির্যাতনের শিকার ওই জেলে উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা মৃত. হক খানের ছেলে মো. মামুন খান (৩২) বলে জানা গেছে। ঘটনার পর একই দিন সন্ধ্যায় সংঙ্গীয় জেলেরা মামুনকে উদ্বার করে আজ সোমবার সকালে মুমুর্ষ অবস্থায় শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
চিকিৎসাধীন মামুন ও তার পরিবারের সদস্যরা জানায়, চলতি মাসের প্রথম দিকে প্রতিবেশি মো. দুলাল হাওলাদার, মো. রাসেল খান ও মো. জিয়ারুল হাওলাদারসহ ৪/৫ জেলে এক সাথে ইলিশ আহরণের উদ্দেশ্যে সাগরে যায়। নদীতে জাল ফেলে রবিবার বিকেল ৫টার দিকে মামুনসহ সংঙ্গীয় জেলেরা সুন্দরবনের কটকা ষ্টেশনের কাছাকাছি দুধমুখীর বালির খাল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ওই সময় উপজেলার বকুলতা এলাকার বাসিন্দা মৃত. আব্দুল হক ফরেষ্টারের ছেলে এবং উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মো. হাসানুজ্জামান পারভেজ তার সহযোগী একই এলাকার বাসিন্দা মৃত রশিদ হাওলাদার ও মৃত চাঁন মিয়া হাওলাদারের ছেলে এবং সুন্দরবনের বনদস্যু রাজ্জাক বাহিনীর এক সময়ের সহযোগী মো. আলম হাওলাদার ও মো. নাছির হাওলাদার, সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা মৃত মালেক হাওলাদারের ছেলে ও কৃষক বাদশা হাওলাদার হত্যা মামলার আসামী মো. জাকির হোসেন হাওলাদার এবং সোনাতলা এলাকার বসিন্দা মো. রশিদ মৃধার ছেলে মো. মিজান মৃধাসহ ৬/৭ জনের একটি দল ট্রলারযোগে এসে জেলে মামুনের ট্রলার ঘেঁষে নোঙ্গর করেন। ওই সময় নদীতে জাল পাতা দেখে ভাইস চেয়ারম্যান মামুনকে ডেকে নিয়ে বলেন, ‘এখানে জাল ফেলেছো ক্যান, অনুমতি দিছে কে, তোদের বলছিনা সুন্দবনের নদী কিংম্বা সাগরে যেখানে জাল ফ্যালো মাসে মাসে টাকা দিবি। তা না হলে মাছ ধরতে আসবি না।’
এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পারভেজের নেতৃত্বে জাকির, আলম, নাছির ও মিজান একজোট হয়ে মামুনকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে চরে ফেলে দেয় এবং ট্রলারে থাকা ইলিশ বিক্রির নগদ ২৫ হাজার টাকাসহ ৩৮টি ইলিশ মাছ লুটে নেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মামুনকে উদ্ধার করে ট্রলারযোগে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তার সহকর্মীরা।
মামুনের স্ত্রী তানিয়া বেগম, মৎস্য ব্যাবসায়ী এমাদুল শরীফ, স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহ আলম খানসহ অনেকে বলেন, পাস পারমিট ছাড়া অবৈধভাবে জঙ্গলে ঢুকে ভাইস চেয়ারম্যান ও তার লোকজন জেলেদের উপর বনদস্যুদের মতো তান্ডব চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় নিরীহ জেলেদের মধ্যে আতংঙ্ক বিরাজ করছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রসাশনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।
এ ব্যাপারে সুন্দরবন পুর্ব বিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ভাইস চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে জেলে নির্যাতনের ঘটনা শুনেছি। অবৈধভাবে সংরক্ষিত বনে প্রবেশের অপরাধে তাকে আটক করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ রয়েছে। অপরদিকে, এ বিষয়ে জানতে ভাইস চেয়ারম্যান পারভেসের মোবাইল ফোনে বহুবার কল করলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে, তার ছোট ভাই মো. পলাশ মাহমুদ বলেন, কোন জেলেকে নির্যাতন করা হয়নি। ওই এলাকার নদীতে জাল ফেলা নিয়ে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। পরবর্তীতে কটকার বনরক্ষীদের মাধ্যমে তা আবার সমাধান হয়েছে। রাজনৈতিক ভাবে চেয়ারম্যানকে ফাঁসাতে প্রতিপক্ষরা নির্যাতনের নাটক সাজিয়েছেন ।
এ ব্যাপারে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ এস কে আব্দুল্লাহ আল সাইদ জানান, বিষয়টি শুনেছি, ক্ষতিগ্রস্থ জেলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
