প্রধান সূচি

চিতলমারীতে সুদখোরের অত্যাচারে স্কুল শিক্ষিকার আত্মহত্যা

বাগেরহাটের চিতলমারীতে সুদখোরদের পাশবিক অত্যাচার-নির্যাতন সইতে না পেরে হাসিকনা বিশ্বাস (৩৮) নামের এক স্কুল শিক্ষিকা আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার বিকেলে উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের খড়মখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘরের আড়ার সাথে ওড়না দিয়ে ফাঁস দেওয়া তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনার পর শত শত মানুষ উপস্থিত হয়ে সুদখোরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা দায়ী সুদখোরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেছেন। সুদখোরদের নির্যাতনে এর আগেও চিতলমারীতে একাধিক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেন। শুধু চিতলমারী নয় বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে নিঃস্ব হচ্ছেন অসংখ্য পরিবার। কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছেন। কেউ কেউ বাপের ভিটা বিক্রি করে পাড়ি জমাচ্ছেন অন্য এলাকায়। কেউ কেউ বেছে নিচ্ছেন আত্মহত্যার মত কঠিন পথ। করোনাকালেও থেমে নেই সুধখোরদের থাবা।

শিক্ষিকা হাসিকনার স্বামী যুগল কান্তি স্থানীয় একটি কিন্ডার গার্টেনের প্রধান শিক্ষক। আর্তনাদ করতে করতে তিনি জানান, বসবাসের জন্য জায়গা কেনা ও ঘর নির্মানের জন্য তিনি চিতলমারী ক্ষদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি’র (থ্রি স্টার) কাছ থেকে চড়া সুদে ৫ লাখ, রত্মা-বিকাশের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা, অনুপ বসু-রেফাফুল খার কাছ থেকে ২ লাখ, ঔষধ কোম্পানীর বিপ্লবের কাছ ৪ লাখ, রবিন সরকারের কাছ থেকে ১ লাখ ও জ্যোতিষের কাছ থেকে কারেন্ট সুদে টাকা নিয়ে মোট ২৬ লাখ টাকা দিয়ে খড়মখালী গ্রামে ৩২ শতক জমি ক্রয় করেন। টাকা সুদে নেওয়ার বিনিময়ে তাদের (স্বামী-স্ত্রী) উভয়ের কাছ থেকে ফাঁকা ১০টি চেকে স্বাক্ষর নেয় ওই সুদখোরেরা। দেনার চেয়ে ৩ থেকে ৪ গুণ টাকা পরিশোধ করেন। তারপরও টাকা পরিশোধ হয়নি বলে ওই সুদখোরেরা দাবী করে। স্বাক্ষর নেওয়া ফাঁকা চেকও ফেরত দেয় না। উল্টো টাকার জন্য অত্যাচার-নির্যাতন করতে থাকে। একপর্যায়ে সুদের টাকার দায়ে চিতলমারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি (থ্রি স্টার) তার বসত বাড়িসহ ভিটেমাটি সব জোর কারে লিখে নেয়। এরপর থেকেই অন্য সুদে কারবারিরা চড়াও হয় তাদের উপর। এ ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে বিকাশ ও রত্মা তাকে ও তার স্ত্রীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্চিত করে। এদিন দুপুরে তিনি বাড়ি না থাকার ফাঁকে অনুপ বসু ও রেফাজুল খা বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী হাসিকনাকে নির্মম মানসিক নির্যাতন করে। তিনি বাড়ি ফেরার পথে অনুপ ও রেফাজুলের সাথে তার দেখা হয়। তিনি বাড়িতে ফিরে দেখেন তার স্ত্রী হাসিকনা ঘরের আড়ায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে আছে। তিনি তার স্ত্রীর আত্মহত্যার জন্য যারা দায়ি তাদের বিচার দাবি করেছেন।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর শরিফুল হক জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানা আনা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial