প্রধান সূচি

জনবল ও ভবন সংকটে ইন্দুরকানীর ইসলামিক মিশনের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত ইসলামিক মিশন। বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত এই ইসলামিক মিশন প্রতিনিয়তই চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন পিরোজপুরের ইন্দুরকানী ও বাগেরহাটের মেড়েলগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন মানুষকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেও ইসলামিক মিশন স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছোট্ট একটি ভবনে ১ জন ডাক্তার প্রতিনিয়তই পিরোজপুর থেকে যাতায়াত করে সকল ধরনের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা বঞ্চিত উপজেলার মানুষদের। তবে ভবন ও জনবলের অভাবে অনেক রোগীই বঞ্চিত হচ্ছেন চিকিৎসা সেবা থেকে। ইসলামিক মিশনে পদ সংখ্যা ১৪টি থাকলেও তার বিপরীতে জনবল আছে মাত্র ৩ জন। ভবনের অভাবে রোগীদের দাঁড়ানোর জায়গাও নেই। ইসলামিক মিশন চিকিৎসা সেবা ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ঋণ প্রদান, সেলাই মেশিন প্রদানসহ ১০টি মক্তব পরিচালনা করে থাকে।

ইসলামিক মিশনের মেডিকেল অফিসার ডা. ইলিয়াস খান বলেন, আমি আগে বারডেম চিকিৎসা সেবা প্রদান করলেও ৪ বছর ধরে একাই ইন্দুরকানীর ইসলামিক মিশনে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। ১০ টাকা টিকিটের বিনিময়ে সকল ধরনের চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকেন এখানে আসা রোগীরা। আমি প্রতিনিয়তই স্থানীয় প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি। তবে বার বার জনবল ও ভবন সংকটের কথা উপরস্থ কার্যালয়ে জানানো হলেও তারা এ ব্যাপারে এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেন নাই। তাই বাধ্য হয়েই ৩ জনে চালাচ্ছি মিশনটি। মাঝে মাঝে চিকিৎসা সেবা দেয়াসহ আরো অনেক কাজ নিজেকেই করতে হয়। জায়গা আছে ভবন নেই, যার ফলে প্রতিনিয়তই রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন চিকিৎসা সেবা থেকে। জনবলের অভাবে আমি এখানে না থাকলে বা অফিসের কাজে বাইরে গেলে সব কিছুই বন্ধ হয়ে যায়।

চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, করোনাকালীন সময়ে প্রতিদিনই ডাক্তার সাহেব এসে আমাদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। উপজেলায় অনেক চিকিৎসা কেন্দ্র থাকলেও ইসলামিক মিশনে যিনি চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন তার চিকিৎসা সেবার মান অনেক ভাল বলেই আমরা এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসি।

বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কবির হোসেন জানান, ইসলামিক মিশনের চিকিৎসা সেবা পেয়ে স্বল্প সময়ে গ্রাম পর্যায়ের এলাকাগুলোতে মানুষ ভালই উপকৃত হচ্ছে। ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট এম. মতিউর রহমান জানান, ইসলামিক মিশন সম্পর্কে আমি জানি। ডা. ইলিয়াস আসার পরে ইসলামিক মিশন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তবে জানতে পেরেছি জনবল ও ভবন সংকট সমস্যার সমাধান হলে আরও ভালো ভাবে জনগন চিকিৎসা সেবা পাবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial