পাথরের বদলে ইটের খোয়ায় ঢালাই
নাজিরপুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের ভবন নির্মাণে অনিয়ম
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের অফিস ভবন নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভবন নির্মানে সিডিউলে পাথর দিয়ে বেইজ ঢালাইয়ের নিয়ম থাকলেও সেখানে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করে বেইজ ও কলামের ঢালাই দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেইজসহ চারটি কলামের বেশকিছু অংশের ঢালাই এর শেষ হয়েছে। সেখানে কাজ তদারকির জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের কাউকে দেখা যায়নি। তাছাড়া ওই কাজে ব্যবহারের জন্য সেখানে নিম্নমানের ইট, ইটের খোয়া, বালু, রড় রাখা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে এসব চিত্র। এসময় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর অফিস কক্ষে গিয়ে ওই দপ্তরের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আকাশ মন্ডলকে পাওয়া যায়। এ সময় তার কাছে ওই কাজের প্রাক্কলন ও ডিজাইন দেখতে চাইলে তিনি অনুমোদন ছাড়া রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার একটি ডিজাইন উপস্থাপন করে বলেন, জেলা অফিস থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী এটাই তাকে সরবরাহ করেছেন এবং এই ডিজাইন অনুযায়ী কাজ করানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর, সীল ছাড়া অনুমোদন বিহীন অন্য জেলার একটি ডিজাইন দিয়ে কিভাবে কাজ করা হচ্ছে এবং এই (নাজিরপুর ভবন) কাজের অনুমোদিত প্রাক্কলন ও ডিজাইন দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে তিনি অফিসের বাইরে গিয়ে মুঠোফোনে কারো সাথে কথা বলে এসে পুনরায় জানান, তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন, যে কাজ ইতিমধ্যে করা হয়েছে সেখানে পাথরই ব্যবহার করার কথা, ভুলবশত: সেখানে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। এখন এগুলো সব ভেঙ্গে নতুন করে করা হবে।
৫৪
জানা গেছে, ২৬ লাখ ৪৬ হাজার ১৬৬ টাকা ব্যয়ে নাজিরপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের অফিস ভবন নির্মাণের জন্য ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে বরিশালের সিকদার এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী মনির মুঠোফোনে জানান, মুলত: কাজটি নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার। সেখানে কর্তৃপক্ষ ভবনটি করার মত নিদিষ্ট জায়গা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে ওই ভবন নাজিরপুরে করা হচ্ছে। যে কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া জুন মাস হওয়ায় অন্যান্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ভুলবশত: এখানে পাথরের পরিবর্তে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। রাতেই পাথর পাঠানো হবে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পিরোজপুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু মুসা মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, বিষয়টি জেনে আমি নিজে সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি এবং বেইজ ঢালাইয়ের কাজ ভেঙ্গে নতুন করে পাথর দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
