মানবাধিকার খবরের সহায়তায়
দেশে ফিরেছে ৩ কিশোরসহ ৫ জন ॥ উদ্ধারের অপেক্ষায় আরো ৬ জন
মানবাধিকার খবরের সার্বিক সহযোগিতায় প্রায় দুই বছর পর দেশে ফিরলো বাগেরহাটের ৩ কিশোর। কাজ দেওয়ার কথা বলে পাচারকারীরা তাদেরকে অবৈধ পথে ভারতের পশ্চিম বঙ্গে নিয়ে যায়। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় অভিভাবকরা সরল বিশ্বাসে পাচারকারীদের প্রলোভনে পরে তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল। কিছুদিন যাওয়ার পর ৩ কিশোর বুঝতে পারে তাদেরকে পাচারের উদ্দেশ্যে ভারতে নিয়ে আসা হয়েছে। তারা কৌশলে পালিয়ে সীমানা পার হওয়ার সময় বিএসএফ এর হাতে আটক হয়। পরবর্তীতে তাদের ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত সেফ হোম কিশলায়ে ঠাঁই হয়। কিশলায় হোমে প্রায় ২ বছর তাদের মানবতার জীবন কাটাতে হয়। অবশেষে নানা আইনি জটিলতা সম্পন্ন করে গত ৬ ফেব্রুয়ারি তারা দেশে ফিরেছে। তাদের অভিভাবকরা বেনাপোল থানা থেকে গ্রহণ করে বাড়ি নিয়ে যায়।
উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করার জন্য মানবাধিকার খবরের প্রতি প্রত্যেক পরিবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
উদ্ধার হওয়া বাগেরহাটের তিন কিশোর হচ্ছে- শফিকুল ইসলাম (১৮), পিতা: হেমায়েত তালুকদার, গ্রাম: মালীয়া রাজাপুর, থানা: শরণখোলা।
সাব্বির (১৬), পিতা: রহমান খান, গ্রাম: মালীয়া রাজাপুর, থানা: শরণখোলা।
মো. জাহিদুল ইসলাম (১৮), পিতা: মো. জামাল তালুকদার, গ্রাম: পূর্ব খোন্তাকাটা, থানা: শরণখোলা।
তানজীর আহমেদ চৌধুরী (৩০), মাতা: নাসিমা বেগম, গ্রাম: আন্দর কিল্লা, সিলেট।
মো. নিজাম মোল্লা (৫০), পিতা: মো. ইউসুফ আলী মোল্লা, গ্রাম: ধানসাগর, উপজেলা: শরণখোলা, জেলা: বাগেরহাট।
উল্লেখ্য, নিজাম মোল্লা গত ২৪ আগস্ট সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে অসাবধানতাবসত সমুদ্রের পানিতে পড়ে যায়। সে ভাসতে ভাসতে ভারতের সীমানায় পৌঁছালে স্থানীয় জেলেরা তাকে উদ্ধার করে।
মানবাধিকার খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক রোটারিয়ান মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, পাচার হয়ে যাওয়া নারী-শিশু উদ্ধার কাজে দু’দেশে যাদের সহযোগিতা সহায়তা পেয়েছেন তারা হচ্ছেন, কলকাতাস্থ উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান, কাউন্সিলর ও হেড অব চ্যাঞ্চেলর মিয়া মো. মাইনুল কবির, ফাষ্ট সেক্রেটারী (প্রেস) মো. মোফাক্কারুল ইকবাল, কাউন্সিলর বি এম জামাল হোসেনসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান ও কাজী রিয়াজুল হক, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি গিরিশ চন্দ্র গুপ্ত, পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান নপরাজিৎ মূখার্জি, রাজ্য সভার সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য, লোকসভার সংসদ সদস্য ও চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান শ্রীমতি প্রতিমা ম-ল, আলিপুর ভবানী ভবনে দক্ষিন ২৪ পরগনায় জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্রীমতি শান্তি দাস, জেলা ইন্টেলিজেন্ট ব্রাঞ্চের নিবেদিতা তালুকদার এডিশন সেক্রেটারি ফরেনার্স গভ পশ্চিমবঙ্গ হোম ডিপার্টমেন্ট গৌরাঙ্গ সরকার। জেলা শিশুরক্ষা সমিতির কর্মকর্তা অনিন্দ ঘোষ, কলকাতার সল্টলেকে বিকাশ ভবনে অবস্থিত শিশু রক্ষা প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুচরিতা, প্রথম আলোর কলকাতা প্রতিনিধি অমর সাহা, মানবাধিকার খবর পত্রিকার কলকাতা প্রতিনিধি দিশা বিশ্বাস, ভারত প্রতিনিধি মনোয়ার ইমাম, বারাসাত প্রতিনিধি প্রদীপ রায় চৌধুরী, মানবাধিকার খবরের কলকাতাস্থ আইন উপদষ্টা রাজীব মুখার্জি, নিলোৎপল মৈত্র প্রমুখ।
