প্রধান সূচি

তিন দিনে হত্যার রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই

নাজিরপুরে ত্রিভুজ প্রেমের কারণে যুবক খুন

বাগেরহাট সদর উপজেলার হালিশহর এলাকার বাসুদেব মন্ডলের ছেলে বাবলু মন্ডল (২১) পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার পশ্চিম চর বানিয়ারী গ্রামে ভগ্নিপতি মহানন্দ মধুর বাড়ীতে বেড়াতে এসে গত ৬ ফেব্রুয়ারী নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ৩ দিন পর ওই গ্রামের সমীর মন্ডলের মাছের ঘেরের পাশে হোগল ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নাজিরপুর থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় গত ৯ ফেব্রুয়ারী নাজিরপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। ১১ ফেব্রুয়ারী মামলা তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে মাত্র ৩ দিনের মধ্যে একটি ক্লুলেস হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতারসহ হত্যার রহস্য উদঘাটন, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
১৪ ফেব্রুয়ারী রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর বাবলু মন্ডলের একমাত্র খুনী গোপাল মন্ডল শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে পিরোজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়ার ম্যাজিষ্ট্রেট পল্লবেশ কুন্ডুর আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে জবাববন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই পিরোজপুরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মাহমুদুর রহমান।
পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক মো. মাহমুদুর রহমান জানান, ত্রিভুজ প্রেমের কারণে মুঠোফোনে নাজিরপুর উপজেলার পশ্চিম চর বানিয়ারী এলাকায় ডেকে নিয়ে বাবলু মন্ডলকে (২১) লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং কেচি (সিজার) দিয়ে বুকে আঘাত করে হত্যা করে তার বন্ধু গোপাল মন্ডল (২০)। গোপাল মন্ডল বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী বাওয়ালীপাড়া গ্রামের গোলক মন্ডলের ছেলে।
খুনের পর লাশ গুম করার জন্য বাবলু মন্ডলের পরিহিত প্যান্টের বেল্ট খুলে গলায় পেঁচিয়ে মরদেহ টেনে স্থানীয় সমীর মন্ডলের মাছের ঘেরের পাশে হোগল ক্ষেতে ফেলে রাখে। এ সময় গলা থেকে বেল্টটি খুলে ওই হোগল ক্ষেতে ফেলে দেয়। এছাড়া হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত লাঠি স্থানীয় বিকাশ মন্ডলের মাছের ঘেরে ও কেচি (সিজার) একটি ডোবায় এবং নিহত বাবলু মন্ডলের ব্যবহৃত মোবাইলটি পার্শ্ববর্তী খালে ফেলে দেয় খুনী গোপাল মন্ডল। গ্রেফতারের পর তার দেখানো মতে সেগুলো উদ্ধার করে পিবিআই।
পিআইবি সূত্রে আরো জানা যায়, বাগেরহাট সদর উপজেলার হালিশহর এলাকার বাসুদেব মন্ডলের ছেলে নিহত বাবলু মন্ডল গত ২৯ জানুয়ারি স্বরস্বতি পূজা উপলক্ষে নাজিরপুর উপজেলার পশ্চিম চরবানিয়ারী গ্রামে ভগ্নিপতি মহানন্দ মধুর বাড়ীতে বেড়াতে আসে। ওই বাড়ীতে থাকাকালীন ৬ ফেব্রুয়ারী রাত ৮টার দিকে তার ব্যবহৃত মোবাইলে ফোন করে কেউ তাকে ডেকে নেয়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় ৮ ফেব্রুয়ারী ভগ্নিপতি মহানন্দ নাজিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। ওই দিন বিকেলে নাজিরপুর উপজেলার পশ্চিম চরবানিয়ারী গ্রামের সমীর মন্ডলের মাছের ঘেরের পাশে হোগলা ক্ষেত থেকে বাবলু মন্ডলের মরদেহ উদ্ধার করে নাজিরপুর থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে ৯ ফেব্রুয়ারী নাজিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেয়া হলে পিবিআই পিরোজপুরের পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে পিবিআই’র একটি টিম তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৪ ফেব্রুয়ারী রাতে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে গোপাল মন্ডলকে গ্রেফতার করে। পিবিআই’র প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং প্রেমের কারণে সে বাবলু মন্ডলকে হত্যা করেছে বলে জানায়।
খুনী গোপাল মন্ডল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, ২ বছর ধরে একই গ্রামের একটি মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছে। একপর্যায়ে বাবলু মন্ডল তার প্রেমে বাঁধা হয়ে দাঁড়য়। ওই মেয়েটিকে সেও প্রেমের প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি জানার পর সে বাবলু মন্ডলকে সর্তক করে। কিন্তু সে তার কথায় কর্নপাত না করায় গোপাল মন্ডল তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে এবং ৬ ফেব্রুয়ারী বাবলু মন্ডলকে তার ভগ্নিপতি মহানন্দের বাড়ী থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে হত্যা করে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial