পাইকগাছায় আমন ধান ক্রয়ে সাড়া না পড়ায় নীতিমালা শিথিল
পাইকগাছায় সরকারীভাবে আমন ধান সংগ্রহে সাড়া না পড়ায় উন্মুক্ত লটারী প্রথা সিথিল করে এখন কৃষি অফিসের মূল তালিকার ভিত্তিতে আমন ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে উপজেলার সর্বত্র মাইকিং করে কৃষকদের ধান বিক্রয় করার উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উন্মুক্ত লটারী করে কৃষক নির্বাচন ও প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে প্রতি কৃষকের কাছ থেকে ১ মেট্রিক টন করে ধান ক্রয়ের জন্য একাধিকবার মাইকিং করেও সাড়া মেলেনি। গত ২ জানুয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না ধান ক্রয়ের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর গত ২২ দিনে এ পর্যন্ত ৪০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ হয়েছে বলে জানান খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান। তিনি আরোও জানান, ১ টনের পরিবর্তে এখন ৩ টন করে ধান ক্রয় করা হবে। চিটা ও ধূলামুক্ত ধানের রং হবে উজ্জ্বল, সে জন্য কৃষকদের আকৃষ্ট করতে নীতিমালা শিথীল করে সর্বত্রই মাইকিং করা হচ্ছে।
জানা গেছে, সরকারীভাবে পাইকগাছা উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন থেকে ১ হাজার ৭৯৬ মেট্রিক টন আমন সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্খিত সাড়া পড়েনি।
উপজেলার বাইনবাড়ীয়া গ্রামের জমির মালিক নিহার রঞ্জন সানা, বগুলার চকের আমর মন্ডল, গদাইপুরের রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ধানের ক্ষতি, পোকার আক্রমনে চিটা, ধান অপুষ্ট ও ধানের রং কালছে বর্ণের হয়েছে। এছাড়া পৌষে ৩ বার বৃষ্টি হওয়ায় পাঁকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা ফসল উঠানেও তুলতে পারেনি। তাছাড়া বৃষ্টির পানিতে ভিজে ধানের সোনালী রং বিবর্ণ ও সরকারী নিয়মে ধান বিক্রিতে ঝুঁকি ও খরচ বেশী সে জন্য কৃষক আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।
