ইন্দুরকানীতে শ্বাসরোধে গৃহবধূকে হত্যা ॥ শাশুড়ী গ্রেফতার
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে শ্বশুরের পছন্দের মেয়ের সাথে ভাইকে বিয়ে না দেয়ায় এক গৃহবধুকে অমানুষিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটানা সাত দিন ধরে বর্বর নির্যাতন চালানোর পর শ্বাসরোধ করে গৃহবধূ শিরিন আক্তার (২৬)কে হত্যা করেছে তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুরী।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের চরগাজীপুর গ্রামে স্বামী মনির সরদারের বাড়িতে তাদের হাতেই নির্মমভাবে খুন হয় গৃহবধূ শিরিন। ঘটনার পর থেকে মনির সরদার এবং তার পিতা মোসলেম সরদার পলাতক রয়েছেন।
এ ঘটনায় নিহত গৃহবধুর পিতা আব্দুল হান্নান খান বাদী হয়ে গৃহবধুর শ^শুর মোসলেম সরদার, শ^াশুড়ী জবেদা বেগম ও স্বামী মনির সরদারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ইন্দুরকানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ শ^াশুড়ী জবেদা বেগমকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করেছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার শিরিনের ভাই মোড়েলগঞ্জের গোবিন্দপুর গ্রামের আলী খান বিয়ে হয়। কিন্তু এই আলী খানের বিয়ের জন্য শিরিনের শ্বশুর মোসলেম সরদার (৫৮) অন্যত্র পাত্রী ঠিক করে রেখেছিলেন। মোসলেমের ঠিক করা পাত্রীকে পছন্দ না হওয়ায় শিরিনের বাবা আব্দুল হান্নান খান তার ছেলে আলী খানকে অন্যত্র পাত্রী পছন্দ করে বিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই বিয়ের দিন থেকেই শ্বশুর বাড়িতে শিরিনকে গৃহবন্দী করে রেখে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। করা হয় অমানবিক নির্যাতন। অবশেষে তাদের নির্যাতনেই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। নিহত শিরিন দুই সন্তানের জননী।
নিহত শিরিনের চাচা কবির হোসেন জানান, শিরিনকে পিটিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। কেউ তাকে সাহায্য করতেও যেতে পারেনি। স্থানীয়ভাবে সালিশ মিমাংসার মাধ্যমে বুধবার শিরিনকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাবার বাড়িতে নেয়ার আগেই শিরিনকে ওরা খুন করে ফেললো। এর আগেও সামান্য ঘটনায় শিরিনকে নির্যাতন করত শ্বশুর বাড়ির লোকজন।
ইন্দুরকানী থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান জানান, গৃহবধূ শিরিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার ঘটনায় ৪ জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে। হত্যার সাথে জড়িত শ্বাশুড়ী জবেদা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামীদেরকেও গ্রেফতারের অভিযান চলছে।
