সুন্দরবনে ৩টি ট্রলারসহ ৬০ হরিণ শিকারী আটক
সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোর কোলে অনুষ্ঠেয় রাস উৎসবকে টার্গেট করে চোরা হরিণ শিকারী চক্রের সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
১০ নভেম্বর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত এ তিন দিনের রাস উৎসবের অনেক আগেই চোরা হরিণ শিকারীর দল গোপনে নানা কৌশলে হরিণ শিকারের টার্গেট নিয়ে বনের গহিণে অনুপ্রবেশ করতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার ভোরে সুন্দরবনে হরিণ শিকারে যাওয়ার সময় পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের জয়মনি এলাকা থেকে বিপুল পরিমান দঁড়ি, ফাঁদ ও ৩টি ট্রলারসহ ৬০ শিকারিকে আটক করেছে বন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে হরিণ শিকারের বিপুল পরিমান দঁড়ি, ফাঁদ, দা, কুড়াল ও চুলাসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে বনরক্ষীরা। এদের সবার বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, রাসমেলা উপলক্ষে কিছু লোক হরিণ শিকার করার জন্য সংঘবদ্ধ হয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই সুন্দরবনে যাচ্ছিল এমন গোপন খবর পেয়ে জয়মনি এলাকায় অভিযান চালায় বনরক্ষীরা। এক পর্যায়ে তিনটি ট্রলারে থাকা লোকজনকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ট্রলারসহ তাদের আটক করা হয়। পরে ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে হরিণ শিকারের দঁড়ি, ফাঁদ, দা, কুড়াল, জব্দ করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, রাস মেলায় হরিণ শিকারের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়ের আগে তারা গোপনে ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনের গহিণে প্রবেশ করতে চেয়েছিল। এর আগেও তাদের কয়েকটি দল জেলের ছদ্মবেশে হরিণ শিকারের উদ্দেশ্যে গোপনে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে নৌকা ও ট্রলার নিয়ে প্রবেশ করেছে। এছাড়া সংঘবদ্ধ হরিণ শিকারী চক্রের আরো অনেক সদস্য রাস মেলাকে টার্গেট করে হরিণ শিকারের উদ্দেশ্যে সুন্দরবনে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর বাগেরহাট জেলার আহবায়ক মো. নুর আলম শেখ বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রাস মেলাকে টার্গেট করে চোরা শিকারীর দল হরিণ ও বন্য প্রাণী নিধন করতে পারে এমন আশংকা আগেই করা হয়েছিল। এবার ট্রলারসহ ৬০ শিকারী আটকের ঘটনা এটাই প্রমাণ করে রাস মেলাকে কেন্দ্র করে হরিণ শিকারী চক্র একেবারেই থেমে নেই। তিনি এ ব্যাপারে বন বিভাগসহ প্রশাসনের নজরদারী আরো জোরদার করার আহ্বান জানান।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং বন ও বন্যপ্রাণি রক্ষায় বন বিভাগের পাশাপাশি নৌবাহিনী, র্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে। তিনি আরো বলেন, চোরা শিকারিদের ব্যাপারে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানে রয়েছি। সাধারণত দেখা যায় মাছ ধরার অনুমতি নিয়ে এসব অপকর্ম করা হয়। তাই আপাতত আমরা জেলেদের সুন্দরবনে ঢোকার অনুমতি দিচ্ছি না। তাছাড়া রাতে বনে কোনো ট্রলার চলাচলের অনুমতিও দেওয়া হচ্ছে না।
