প্রধান সূচি

আইসিপিডি+২৫ বাংলাদেশ ন্যাশনাল কনসালটেশন

টেকসই উন্নয়নমাত্রার তৃতীয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণের লক্ষ্যে সকলের জন্য যৌন ও প্রজনণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরী। আর এর জন্য অপূরণীয় পরিবার পরিকল্পনা চাহিদা পূরণ, আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার, দীঘ  মেয়াদী পদ্ধতি ব্যবহার  নিশ্চিতকরণ, নারী-পুরুষের বৈষম্য কমানো, নারীর প্রতি সহিংসতা দূরীকরণ, আইসিপিডি+২৫ এর অসম্পূণ কাযক্রমগুলোর গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবার মানোন্নয়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন কাযক্রমকে গতিশীলতা আনতে মেরীস্টোপস বাংলাদেশ ও সিরাক বাংলাদেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আয়োজন করা হয় “জনসংখ্যা উন্নয়ন বিষয়ক জাতীয় আইসিপিডি+২৫” কনসালটেশন ওয়াকশপ। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিসহ জাতীয় সংসদ সদস্য, বিভিন্ন উন্নয়ন কমী, পরিবার পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞসহ প্রায় ১০০ তরুণের উপস্থিত ছিল এই ওয়াকশপে।

কনসালটেশন মিটিং এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকি, সংসদ সদস্য জাফর ইমাম, ডা. এজে ফয়সাল, সিভিল সোসাইটি রিপ্রেজেনটেটিভ ডা. জেবুন নাহার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই মনজুন নাহার, ম্যানেজার কমিউনিকেশন এন্ড অ্যাডভোকেসি আইসিপিডি সম্মেলনের পটভূমি তুলে ধরেন। এছাড়াও তিনি গত ২৫ বছরে বাংলাদেশের অর্জনগুলো তুলে ধরেন। আইসিপিডির অংশগ্রহণকারী হিসেবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বেশকিছু অজন করেছে যেমন অথনৈতিক উন্নয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, টিএফহার ৩.৪ থেকে কমে ২.৩ এ নেমে আনা এবং গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা সেবার এখনও অপূরণীয় চাহিদাগুলো সম্পকে তুলে ধরেন।

স্বাগত বক্তব্যের পর সংসদ সদস্য, সরকারি প্রতিনিধিসমূহ, সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধিবগ ও পরিবার পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকি তার বক্তব্যে বলেন, সরকার পরিবার পরিকল্পনা সেবার মানোন্নয়নে খুবই আন্তরিক। সরকার সকলের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করেছে যেখানে পরিবার পরিকল্পনা সেবার পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের যৌন ও প্রজনণ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে।

মেহের আফরোজ চুমকির বক্তব্যের পর বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য জাফর ইমাম। তিনি উল্লেখ করেন জাতীয় জিডিপির ২% সেফটি নেটের জন্য ব্যয় করা হয়। এছাড়াও তিনি বলেন, উন্নত পরিবার পরিকল্পনা সেবার কারণে নারীদের ক্ষমতায়ন হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষায় বেড়েছে নারীদের অংশগ্রহণ। ১৪০০০ কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে যা সারা বিশে^র রোল মডেল হিসেবে কাজ করছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ২৪ ঘন্টা নরমাল ডেলিভেরি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। সরকার যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

কনসালটেশন ওয়াকশপে ফারিন দৌলাহ যুবকদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য চাহিদা সম্পকে সম্পাদিত গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। যেখানে তিনি দেখান যে ৭৭.৩% কিশোর-কিশোরীরা যৌন সম্পক জানতে চায় কিন্তু উপযুক্ত সেবাবান্ধব কেন্দ্রের অভাবে তারা তা জানতে পারে না। এছাড়াও বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক বিভিন্ন সামাজিক ও বাঁধাসমূহ তুলে ধরেন।

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর প্রশ্নোত্তর ও মুক্ত আলোচনায় পরিবার পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত প্রদান করেন। নারী-পুরুষ সমতায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাঁধাগুলো সম্পকে বিশদ আলোচনা করা হয়। বিশেষত বাল্য বিয়ে, যৌতুক প্রথা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক মুক্ত আলোচনার বিষয়ে গুরুত্বরোপ করা হয়। এছাড়াও মুক্ত আলোচনায় আইসিপিডি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এখনও যে সমস্যাগুলো বিদ্যমান রয়েছে তা তুলে ধরেন।

প্রশ্নোত্তর ও মুক্ত আলোচনায় পরিবার পরিকল্পনার বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং তারা উত্থিত প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। ডা. সরোয়ার বারী, যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেন কিশোরর-কিশোরীদের যৌন ও প্রজনণ স্বাস্থ্য সেবার জন্য  কৈশোর-বান্ধব সেবাকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এফপি ২০২০ সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি ডা. এজে ফয়সাল পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার সম্পকে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি কাযক্রমকে গতিশীল করতে পুরুষদের অংশগ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করে।

এছাড়াও বিশেষজ্ঞদের মুক্ত আলোচনায় পরিবার পরিকল্পনা সেবার গত এক দশকের বাংলাদেশের অগ্রগতি ও বতমান পরিস্থিতি সম্পকে আলোচনা করা হয় যেখানে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়। গত ১০ বছর ধরে টিএফআর ২.৩ এ স্থির হয়ে আছে পরিবার পরিকল্পনার দীঘমেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণের হার এখনও নি¤œ। পরিবার পরিকল্পনায় অপূণ চাহিদা হার উচ্চ (১২%)। পদ্ধতি ব্যবহার থেকে ঝড়ে পরার হার ৩০% এবং নি¤œ জন্মনিয়ন্ত্রক ব্যবহার হার । ১৫-১৯) বছর বয়সী বিবাহিত তরুন দম্পতিদের মাঝে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারের হার মাত্র ৫১ % ।

মুক্ত আলোচনার পরবতীতে এফপি ২০২০ কমিটমেন্ট পূরণে বাংলাদেশ সরকার যে প্রতিশ্রুতিগুলো প্রদান করেছিল তা বাস্তবায়নে যুব প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অ্যাকশন প্লান করা হয়। যেখানে এফপি ২০২০ কমিটমেন্ট পূরণের জন্য নি¤েœাক্ত বিষয়গুলো গৃহীত হয়।  টেকসই উন্নয়নমাত্রার তৃতীয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণের লক্ষ্যে সকলের জন্য যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। আর এর জন্য অপূণ পরিবার পরিকল্পনা চাহিদা পূরণ, আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার, দীঘ মেয়াদী পদ্ধতি  ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যুবক ও কিশোর-কিশোরীদের  যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সেবার প্রতি গুরুত্বারোপ, নারীর প্রতি বৈষম্য, অনাকাঙ্খিত গভধারণরোধে সরকারকে ব্যপক পরিসরে যৌন ও প্রজনন শিক্ষার বিকাশ, তথ্য প্রাপ্তি ও সেবার প্রদানের উপর গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সেবাপ্রদানকারী সংস্থার মাঝে সমন্বয় সাধন প্রয়োজনীয় সংখ্যক মিডওয়াইফ, ধাত্রী, নাস এবং ডাক্তার নিয়োগ প্রদান করা। বেসরকারী মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনা সেবা চালু করা, আথিক বরাদ্দ বৃদ্ধি,  প্রাইভেট ও পাবলিক পাটনারশিপ শক্তিশালীকরণ এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা বিষয়ক বিদ্যমান নীতিমালাগুলোর সংস্কারকরণ ও নীতিমালা প্রণয়ন করা।

বাংলাদেশ জাতীয় আন্তজাতিক জনসংখ্যা উন্নয়ন কমশালায় গৃহীত এই কমপরিকল্পনাগুলো পরবতীতে সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পযায়ের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করা এবং আইসিপিডি+২৫ সম্মেলনে উপস্থাপন করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে কমশালার কাযক্রম শেষ হয়। সমগ্র কমশালাটি সঞ্চালনা করেন এস.এম সৈকত, নিবাহী পরিচালক, সিরাক বাংলাদেশ।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial