মঠবাড়িয়ায় তুষখালী কলেজে হামলার ঘটনায় মামলা ॥ ইউপি সদস্যসহ আটক-৩
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায তুষখালী কলেজে হামলার ঘটনায় মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তুষখালী কলেজের অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১৩ জন নামীয় আসামীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০/৩৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।
এদিকে, কলেজে হামলা, মারধর ও ভাংচুরের ঘটনায় পুলিশ তুষখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার মিলন মোল্লা (৪০), জুয়েল সেখ ওরফে টোকাই জুয়েল (৩৮) এবং মেহেদী হাসান উজ্বল নামে এজাহার নামীয় তিন আসামকে গ্রেফতার করেছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তুষখালী কলেজ সুনামের সাথে রেজাল্ট করে আসছে। সম্প্রতি কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়েছে। এজাহারে উল্লিখিত আসামীরা সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ। গত ৩১ অক্টোবর সকালে আসামী মো. সোহেল ওরফে টোকাই সোহেল, মো. মিলন, মো. মন্টু ও সাজিদ খানের নেতৃত্বে কয়েকজন কলেজ লাইব্রেরীতে ঢুকে তিন লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। এ সময় চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা টাকা আদায় করে নিবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। এর পরে গত ১ নভেম্বর শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে এজাহারে বর্নিত আসামীরা অজ্ঞাতনামা আসামীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র সহকারে বাসযোগে এসে কলেজে হামলা, ভাংচুর এবং লুটপাট করে। এ সময় কলেজের নৈশ প্রহরী খাইরুল ইসলাম বাঁধা দিলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।
হামলাকারীরা কলেজের বিজ্ঞানাগার ও অন্যান্য রুমের তালা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে ৪টি ল্যাপটপ, একটি প্রজেক্টর, অনুবীক্ষণ যন্ত্র, ডিজিটাল ওয়েটসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময তারা কলেজের মাঠে ও রাস্তায় থাকা ট্রাক, মোটর সাইকেল, মাহেন্দ্র ভাংচুর করে। একই সময়ে হামলকারীরা কলেজের সামনে রাস্তার পাশে থাকা কয়েকটি দোকানেও ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জাফর মো. মাসুদুজ্জামান জানান, তুষখালী কলেজে হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
