পিরোজপুরে কিশোর গ্যাং রোধে পুলিশের অভিযান ॥ ১১৭ শিক্ষার্থী আটক
কিশোর গ্যাং রোধসহ সন্ধ্যার পরে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বাইরে আড্ডা বন্ধ করার লক্ষে পিরোজপুরে জেলা পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। সোমবার এবং মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে এবং রাতে জেলাব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে ও নির্দেশে এ অভিযান চালানো হয়।
শহরের বিভিন্ন স্থানে সন্ধ্যার পরে এবং রাতে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা রেখে বাইরে আড্ডা দেয় সেখান থেকে যেন কোন অপরাধ সংগঠিত হতে না পারে এর জন্যই এ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান। এছাড়া সন্ধ্যার পরে শিক্ষার্থীদের ঘরের বাইরে না থাকার বিষয়েও শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের সচেতন করা হচ্ছে। একইসাথে পিরোজপুর জেলার সকল থানায় কিশোর গ্যাং লিডার সৃষ্টি হতে না পারে সেই লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা পুলিশ পিরোজপুর জেলা সদরসহ জেলার ৭ উপজেলা থেকে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া ১১৭ জনকে আটক করে। এর মধ্যে পিরোজপুর সদর উপজেলা থেকে ৩০ জন, নাজিরপুর উপজেলা থেকে ২২ জন, ভান্ডারিয়া উপজেলা থেকে ১৭ জন, মঠবাড়ীয়া উপজেলা থেকে ৮ জন, ইন্দুরকানী উপজেলা থেকে ২৬ জন, কাউখালী উপজেলা থেকে ৪ জন এবং নেছারাবাদ উপজেলা থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়। পরে আটককৃতদের অভিভাবকদের ডেকে এনে মুচলেকা রেখে রাতেই তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, গ্যাং কালচার একটি অপরাধের নতুনমাত্রা। কিশোর অপরাধীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় বড় অপরাধের সাথে যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা রাতে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হয়। পড়াশোনা রেখে রাতে বাইরে কেউ আড্ডা দিতে পারবে না। পিরোজপুর জেলায় কোনো কিশোর গ্যং লিডার সৃষ্টি হতে দেয়া হবে না। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সন্তান কোথায় থাকে, কার সাথে আড্ডা দেয় এবং প্রয়োজন ছাড়া রাতে বাসার বাইরে থাকে কি না, সেই দিকে নজর রাখতে হবে অভিভাবকদের। উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েরা যাতে মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিংসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অপরাধে লিপ্ত না হতে পারে সেজন্য অভিভাবক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
পিরোজপুরের অভিযানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা আজাদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আহমাদ মাঈনুল হাসান, সদর থানার ওসিসহ ডিবি পুলিশ এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিল।
