স্ত্রীর সাথে পরকিয়া ॥ বন্ধুকে কুপিয়ে জখম
পিরোজপুরের নাজিরপুরে স্ত্রীর সাথে পরকিয়া সম্পর্কের জের ধরে সাব্বির ফকির (৩৩) নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বানিয়ারী বাজারের ব্রীজ সংলগ্ন রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা গুরুতর জখম অবস্থায় সাব্বিরকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাৎক্ষনিক তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে সে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহত সাব্বির ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। এ ঘটনায় সাব্বিরের বোন সেতারা বেগম বাদী হয়ে সাব্বিরের বন্ধু একই গ্রামের মৃত মোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে সিরাজুল ইসলামসহ ৫ জনকে আসামী করে বৃহস্পতিবার নাজিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন নাজিরপুর থানার ওসি মো. মুনিরুল ইসলাম মুনির।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম ও আহত সাব্বির ফকির দুজনই কোরআনের হাফেজ এবং তারা ঘনিষ্ট বন্ধু। বিবাহের পূর্ব থেকেই সিরাজের স্ত্রীর সাথে আহত সাব্বিরের প্রেমের সর্ম্পক ছিল। যা বিবাহের পরেও চলে আসছিলো। তারা সিরাজের অজান্তে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় দেখা সাক্ষাত করতো। বিষয়টি সিরাজের নজরে আসলে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে কয়েক দফা স্থানীয় শালিস বৈঠকে সাব্বিক ফকিরকে সতর্ক করাসহ অর্থদন্ড করা হয়। এর পরেও সাব্বির সংশোধন না হয়ে সিরাজের স্ত্রীর সাথে পরকিয়া সম্পর্ক অব্যাহত রাখে এবং নিয়মিত সিরাজের স্ত্রীর সাথে যোগযোগ করে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে সিরাজ তার লোকজন নিয়ে বুধবার রাতে সাব্বিরকে উপজেলার বানিয়ারী বাজারের ব্রীজ সংলগ্ন রাস্তায় পেয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত সিরাজের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মুঠোফোনে অভিযুক্ত সিরাজের ফুফাতো ভাই মাসুম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সিরাজের স্ত্রীর সাথে অবৈধ সর্ম্পকের কারণে সাব্বির তার স্ত্রীকেও তালাক দিয়েছে। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে অনেক চেষ্টা করেও তাদের পরকিয়া সর্ম্পক ছিন্ন করা যায়নি। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে সিরাজ এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুনিরুল ইসলাম মুনির জানান, এ ঘটনায় আহত সাব্বিরের বোন সেতারা বেগমের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি মামলা রুজু হয়েছে। মামলার আসামীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
