নাজিরপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত আনিস মুন্সির অবস্থা আশংকাজনক
পিরোজপুরে নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের হোগলাবুনিয়া গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত আনিস মুন্সির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজধানীর নিওরো সাইন্স হাসপাতালের আইসিউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। গত ৭ জুলাই রবিবার রাতে প্রতিপক্ষরা তাকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে আহতের চাচাতো ভাই সাজ্জাদ হোসেন মুন্সি বাদী হয়ে নাজিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে আহত আনিস মুন্সির চিকিৎসাকালীন ছবি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অনেকে নানা মন্তব্য করে ঘটনায় জড়িতদের শাস্তিসহ ন্যায় বিচার দাবী করছেন। বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় ঘটনাটি এখন টক অব দ্যা নাজিরপুরে পরিনত হয়েছে।
মামলার বাদী সাজ্জাদ হোসেন মুন্সি জানান, স্থানীয় একটি মসজিদের ফান্ডের হিসাব নিয়ে ওই মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বের মুন্সির সাথে কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সাথে মতবিরোধ হয়। এ ঘটনায় মুন্সি বংশের একটি গ্রুপ ওই মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ করে দেয় এবং একই বংশের সাজ্জাদ হোসেন মুন্সিসহ তার পরিবারের লোকজনদের ওই মসজিদে যেতে বাঁধা নিষেধ করে। এ বাঁধা নিষেধ উপেক্ষা করে তারা ওই মসজিদের নামাজ পড়া অব্যাহত রাখায় একই বংশের মধ্যে দুটি গ্রুপ হয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ৭ জুলাই রবিবার রাতে প্রতিপক্ষ তুষার মুন্সি, শাহিদুল মুন্সি, সুমন মুন্সি, আজিজুল মুন্সি ও লাভলু মুন্সি দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে সাজ্জাদ হোসেনের বাড়ীতে প্রবেশ করে তাকে মারধর করে। এ সময় তার স্ত্রী ফারজানা তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে তাদের দুজনকে মারধর করতে থাকে। তখন আনিস মুন্সি তাদের রক্ষা করতে গেলে তারা আনিস মুন্সিকে ধরে ইট দিয়ে তার মাথায় এলোপাথারীভাবে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ সময় আনিসের স্ত্রী রিপা তার স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও মারপিট করা হয়। এক পর্যায়ে আনিস মুন্সি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তিনি মারা গেছে ভেবে প্রতিপক্ষরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আনিস মুন্সিসহ অন্যদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে আনিস মুন্সি’র অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। খুলনায় চিকিৎসারত অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকার নিওরো সাইন্স হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালে গত বৃহস্পতিবার রাতে তার মাথায় অস্ত্রপাচার করা হয়। অপারেশনের পরে তাকে বেডে দেয়া হলেও শুক্রবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিউতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি আশংকারজনক অবস্থায় ওই হাসপাতালের আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষনে রয়েছে।
নাজিরপুর থানার ওসি মো. মুনিরুল ইসলাম মুনির বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা অব্যহত রয়েছে।
