উপবৃত্তির একাউন্ট খুলতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ
পিরোজপুরের নাজিরপুরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপবৃত্তির জন্য মোবাইলে একাউন্ট খোলার কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা খরচের কথা বলে এ টাকা উত্তোলন করছেন।
সোমবার দুপুরে উপজেলার নাওটানা বিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গেলে ওই বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী আফসান মিম জানায়, “বিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞানের শিক্ষক মিন্টু স্যার তার কাছ থেকে উপবৃত্তির বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য এক শত টাকা নিয়েছেন। একই শ্রেণীর মুক্তা ঢালী জানায়, প্রধান শিক্ষক এ টাকা চেয়েছেন। আর তাই বাংলা ম্যাডাম রানু আপার কাছে আমি বিকাশ একাউন্টের জন্য এক শত টাকা দিয়েছি।”
একই শ্রেণীর চাতুকি মিস্ত্রী, নেয়ামত উল্লা জানায়, তারা বিদ্যালয়ের মিন্টু স্যারকে ওই টাকা দিয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র দিপু মিস্ত্রী জানায়, উপবৃত্তির একাউন্ট খুলতে গেলে বিদ্যালয়ের অফিস থেকে তার কাছে এক হাজার টাকা দাবী করা হয়। গরীব অসহায় পিতা দিলীপ মিস্ত্রী ওই টাকা দিতে না পারায় সে (দিপু) স্থানীয় মাসুদের ঘরে কাজ করে পাওয়া ৩শ’ টাকা বিদ্যালয়ে দিয়ে মোবাইলে বিকাশ একাউন্ট খুলেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই সব টাকা নেয়ার রশিদ হিসেবে বিদ্যালয়ের গোল সিলসহ ছোট একটি কাগজ দেয়া হয়েছে। তবে তাতে টাকার কোন পরিমান উল্লেখ নাই।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনের জন্য বিকাশ একাউন্ট খুলতে কাজ করা মো. সাইদুল ইসলাম সবুজ জানান, বিকাশের একাউন্ট খুলতে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে কোন টাকা নেয়ার নিয়ম নেই।
এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত জীব বিজ্ঞানের মিন্টু লাল মৈত্র ও বাংলার শিক্ষিকা রানু ম্যাডামের কাছে প্রধান শিক্ষকের সামনে বসেই জানতে চাইলে তারা জানান, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশেই এ টাকা উত্তোলন করেছেন।
প্রধান শিক্ষক মো. আলী আশ্রাফ জানান, ওই সব শিক্ষার্থীদের কাছে অনেক টাকা পাওনা আছে তাই তাদের কাছ থেকে ওই টাকা নেয়া হয়েছে।
উপজেলার দীর্ঘার একাডেমী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সজীব গাইন জানায়, তার উপবৃত্তির টাকা তুলতে মোবাইলে একাউন্ট খুলতে বিদ্যালয়ে গেলে বিদ্যালয়ের সঞ্জয় স্যারকে খরচ ববাদ ৩০ টাকা দিতে হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম জানান, উপবৃত্তির টাকা দেয়া কালে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোন টাকা নেয়ার বিধান নেই। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়াসহ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হবে।
