বর্ষার আগমন নিয়ে প্রকৃতিতে সৌরভ ছড়াচ্ছে কামিনি
প্রচন্ড উত্তাপ আর অসহনীয় গরমের উত্তরণ ঘটাতে প্রকৃতিতে মেঘের ডামাডোল বাজিয়ে হাতছানি দিয়ে আসছে বর্ষা। আর সেই বর্ষার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিতে রাস্তার ধারে, ঘাট বা বাসা-বাড়ির সামনে অযতেœ পড়ে থাকা সাদা শুভ্র সুগন্ধি কামিনি ফুল সৌরভ ছড়াচ্ছে আপন মহিমায়। রাস্তার পাশে, বাগানের মধ্যে সাদা রং ও ছোট ছোট পাপড়ি মেলে মৃদু গন্ধ ছড়ানো কামিনি ফুলে এখন ভরে যাচ্ছে গ্রামের বিভিন্ন এলাকা।
তেমনি একটি এলাকার নাম পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী উপজেলার থানা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ট্রলার ঘাট। সেখানে ঝাপনাকারে শাখা-প্রশাখা মেলে ধরা কামিনি গাছের ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে নিচে পাতানো হয়েছো ছোট চৌকি। সেই খাটের উপরে বিচানো হয়েছে হোগলের পাটি।
স্বরূপকাটি সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস হয়ে সোজা দক্ষিন জগন্নাথকাঠি বন্দরের দিকে গেলেই যে কারো নজর কারবে মসজিদ ঘাটের পাশে ফুটে থাকা সাদা শুভ্র সুগন্ধি কামিনির। ওখানে ফুটে থাকা কামিনির রাতের বেলায় এর মৃদু সৌরভ মনকে যেন মাতোয়ারা করে দেয়। গ্রীষ্মের এই বিদায় লগ্নে প্রকৃতির ভ্যাবসা গরমে যখন সন্ধ্যা বেলা বিদ্যুৎ উদাও হয়ে মানুষ ত্রাহী অবস্থায় পড়ে পড়ে, তখন পথচারিসহ স্থানীয়দের ভীড় পড়ে যায় ওই কামিনি তলায়। তবে অধিকাংশ সময় সূর্যের আগুন জ্বালানো প্রখর রোদে সেখানের ট্রলার চালকরা অস্থির হয়ে যায় তখন দেহ মন শীতল করতে তারা অবস্থান নেন কামিনি তলায়। তখন চারদিকে শাখা-প্রশাখা মেলে ধরা ফুলে ফুলে ভরা কামিনির বাতাসে মন যেন উতলা হয়ে ওঠে।
কামিনি গাছের সাদা ছোট ফুল গাছের কান্ডের পাতার কাছে অনেকটা গুচ্ছকারে জন্মে। আবার কিছু কিছু ফুল একাকি অবস্থান করে। কামিনি ফুল পুরোপুরিভাবে ফোটার সাথে সাথে এর ছোট সাদা পাপড়িগুলো জড়ে পড়ে। বর্ষাকালে এই ফুল ফোটে। তাই এটিকে বলা হয় বর্ষার ফুল। এই গাছ বাগানে যেমন শোভা বর্ধন করে, তেমনি নানা রোগে ব্যবহৃত হয় এটি।
ইন্টারনেট সূত্রে জানা গেছে, গাছটির বিভিন্ন অংশ দিয়ে তৈরী ঔষধ জ্বর, ডায়রিয়া নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এছাড়া ব্যাথা নাশক হিসেবে এর ভূমিকা ব্যাপক।
