প্রধান সূচি

মোংলায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের ভিটেমাটি দখলের পায়তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ

মোংলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে নিজ ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি সংশ্লিষ্টদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও প্রভাবশালী প্রতিপক্ষ মহলের কারণে কোন সুফল পাচ্ছেন না।

খোঁজ খবরে জানা গেছে, পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কুমারখালী গ্রামের মৃত. ফুলমিয়া মীরের  ছেলে মো. ইসমাইল মীর দীর্ঘদিন ধরে তার প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের ছেলে মনির শেখের জমি দখলের পায়তারা চালিয়ে আসছে। গত বছরের ১০ নভেম্বর ইসমাইল তার খামার বাড়িতে চুরি হয়েছে অভিযোগ তুলে প্রতিবেশী মনিরের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ১, তারিখ: ০১/১২/২০১৮)।

মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, তার খামার বাড়িতে রাখা সাড়ে ৯ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা রাখা ছিল, যা চুরি হয়েছে। তার দাবী অনুযায়ী চুরির ঘটনা সংগঠিত হওয়ার ২১ দিন পর ইসমাইল মীর বাদী হয়ে থানায় মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সেলিম হোসেন চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল বাগেরহাটের আদালতে মনির হোসেনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এজাহারে মনির হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম বেগমের নাম উল্লেখ থাকলেও তাকে তদন্ত শেষে অভিযোগ থেকে কি কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে সেটাও তিনি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন নি।

অভিযোগ পত্রের সাথে মামলার আইও এসআই মো. সেলিম ৫ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য ১৬১ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন। স্বাক্ষীদের মধ্যে ৪ জন স্বাক্ষীর রেকর্ডে দেখা যায় তারা চুরির বিষয়টি অন্যের মুখে শুনেছেন মাত্র, এরচেয়ে বেশি কিছু জানেন না তারা। অপর স্বাক্ষী মো. আব্দুর রহিম তিনিও কিছু জানেন না। রহিম বলেন, পুলিশ অহেতুক তার নাম জড়িয়ে কল্পকাহিনী সৃষ্টি করে তাকে স্বাক্ষী করেছেন। তিনি আরো বলেন, যেহেতু আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না, সেহেতু আমার স্বাক্ষী দেয়ার তো প্রশ্নই আসেনা, আমি কি স্বাক্ষী দিব।

ভুক্তভোগী মনিরের শিশু পুত্র নিয়ামুল ইসলাম মাহি বলেন, আমি মোংলা টি. এ. ফারুক স্কুলে ৫ম শ্রেণীতে পড়তাম। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন কুকুর লেলিয়ে দিয়ে ও পথরোধ করে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর আমি অন্য স্কুলে ভর্তি হই। একই কথা বলেন মনিরের অনার্স পড়–য়া মেয়ে মনিয়া তাঞ্জুম মীম।

মীম বলেন, ইসমাইলের সহযোগী সালাম, সালেহা, হাসনাসহ বেশ কয়েক ব্যক্তি তাকে অপহরণের চেষ্টা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে।

প্রতিপক্ষের মামলা ও হয়রানীর শিকার মনির শেখ বলেন, আমার জায়গা জমি থেকে উচ্ছেদ ও দখলের উদ্দেশ্যেই ইসমাইল মীর মিথ্যা চুরির সাজিয়ে আমার নামে মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। আমি প্রতিকার চাই।

এ ব্যাপারে ইসমাইল মীরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে (মোবাইল নং ০১৭১০-৯০০১৮৬) তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ইসমাইল মীর তার পরিবার নিয়ে আলাদা বাড়ীতে থাকেন। খামার বাড়ীতে তো থাকেন না। সেখানে মাঝে মধ্যে আসেন। সেখান থেকে যে স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। এটি পরিকল্পিত যড়যন্ত্র ছাড়াই কিছু না। নিজ বাড়ী ঘর রেখে কেউ কি খামার বাড়ীতে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা পয়সা রাখে।

তবে ভুয়া স্বাক্ষী সাজিয়ে মামলার চার্জশিট দাখিলকারী তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন বলেন, তারা আগে চুরির বিষয়ে আমার কাছে স্বাক্ষী দিয়েছেন, এখন যদি তারা উল্টে যান সেক্ষেত্রে আমার কি করার আছে। তবে এ মামলার ঘটনায় ইসমাইল মীরের ভাই হানিফ মীরের প্রভাব খাটাচ্ছেন বলেও তিনি সাংবাদিকদের কাছে স্বাকীর করেছেন। এছাড়া খামার বাড়ী (মৎস্য খামার) থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা পয়সা চুরির বিষয়টি রহস্যজনক কিনা এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial