বিরোধ জমি নিয়ে বিরোধে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা
মঠবাড়িয়ায় ভূক্তভোগি পরিবারের সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক স্কুল শিক্ষিকাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এনে সাজানো মামলা দিয়ে প্রতিপক্ষ পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় হয়রাণির শিকার স্থানীয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী দুলাল ফরাজির স্ত্রী মহিমা আক্তার সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
বুধবার সকালে মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মহিমা আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী দুলাল ফরাজি স্থানীয় উপজেলার ৬৭নং পূর্ব সেনের টিকিকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিয়ন-কাম-নৈশ প্রহরী পদে চাকুরি করেন। স্থানীয় সেনের টিকিকাটা গ্রামের মৃত হাকিম মুন্সির ছেলে স্বপন মুন্সি ও তার ফুফাতো বোন স্থানীয় ৬৮নং পশ্চিম সেনের টিকিকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা দিলারা আক্তার এমিলির সাথে ১০ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। পৈত্রিক সম্পত্তি বলে স্বপন মুন্সি বিরোধীয় ওই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। ওই জমি স্কুলের নৈশ প্রহরী দুলাল ফরাজি দেখাশোনা করতো। তবে সেনের টিকিকাটা মৌজার ১৬৩৩ খতিয়ানভূক্ত ১৭৬৯ দাগের ১০ কাঠা জমি প্রতিপক্ষ স্কুল শিক্ষিকা দিলারা আক্তার তার ফরাজ সম্পত্তি বলে দাবি করলে দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত ২১ মে রাতে শিক্ষকা দিলারা আক্তার তার লোকজন নিয়ে বিরোধীয় জমিতে ঘর তুলে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দিলারার বড় ভাই রুহুল আমীন মোল্লাকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। পুলিশ ওই ঘটনায় একটি জিডি করে (নং ৯৩২/১৯, তাং ২১/৫/১৯)। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আদালতে প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে একটি লুট মামলা দায়ের করেন। নৈশ প্রহরী দুলাল ফরাজিকে প্রধান আসামী করে ৫ জনের বিরুদ্ধে স্কুল শিক্ষকা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
নৈশ প্রহরী দুলালের স্ত্রী মহিমা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষরা তার স্বামীকে আটকে বেদম মারধর করে গুরুতর আহত করে। তাকে বরিশালে চিকিৎসা করানো হয়। ওই হামলার ঘটনায় দুলালের বড় ভাই জামাল ফরাজি বাদী হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানায় মামলা করেন। ওই মালায় স্কুল শিক্ষিকাকে ৩ নম্বর আসসামী করা হয়। (মামলা নং ৫৪, তারিখ-২৫/৫/২০১৯)। অন্যদিকে, একই তারিখে স্কুল শিক্ষিকা দিলারা আক্তার বাদী হয়ে নৈশ প্রহরী দুলাল ফরাজিকে প্রধান আসামী করে তিন জনের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ নৈশ প্রহরী দুলালকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। সে বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে।
গৃহবধূ মহিমা আক্তার অভিযোগ করেন, বিরোধ জমি নিয়ে অথচ মামলা দেওয়া হয়েছে ধর্ষণ চেষ্টার। প্রতিপক্ষরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা এখন নানা রকম ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষিকা দিলারা আক্তার এমিলি বলেন, দুলাল ফরাজি ওই জমির কোন কেয়ারটেকার কিংবা পক্ষ না। কিন্তু সে আমার প্রতিপক্ষদের পক্ষে গিয়ে আমার ওপর নির্যাতন চালানোর চেষ্টা চালিয়েছে। ওই জমি আমার স্বামী ও নানার সম্পত্তি বলে আমি ফরাজ হিসেবে ন্যায্য দাবিদার।
মঠবাড়িয়া থানার ওসি (তদন্ত) মাঝহারুল আমিন (বিপিএম) জানান, স্কুল শিক্ষকাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলার পর নৈশ প্রহরীকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তপূর্বক সত্য-মিথ্যা যাচাই করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
