প্রধান সূচি

ধেয়ে আসছে সুপার সাইক্লোন ‘ফণি’

বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে সুপার সাইক্লোন ‘ফণী’। শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ ঝড়টি বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গত ১০ বছরের মধ্যে শক্তিশালী ঝড় হবে এই ফণী। বর্তমানে এর গতিবেগ ঘন্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার। তবে ভারতের ওপর দিয়ে আসার কারণে ও নিজেদের প্রস্তুতি থাকায় বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি কম হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ আঘাত হানার আশঙ্কায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আবহাওয়া অধিদফতরের জরুরি বার্তায় এই সংকেত দেখানোর কথা বলা হয়। সকালে আবহাওয়া অধিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল থেকে ফণি খুলনা ও তৎসংলগ্ন জেলার পূর্বাঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে। এদিন সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলোতে আঘাত হানতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১৬০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

উপকূলীয় জেলা বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘন্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া দফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ১০ বছরে দেশে মোট ৫টি বড় ঘূর্ণিঝড় হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল ‘মোরা’। ২০১৭ সালের ৩০ মে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোরা আঘাত হেনেছিল। এর গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪৬ কিলোমিটার।

এর আগে, ২০১৬ সালের ২১ মে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ আঘাত হানে। এর গতিবেগ ছিল ১২৮ কিলোমিটার। ২০১৩ সালের ১৬ মে আসে মহাসেন, যার গতি ছিল ১০০ কিলোমিটার।

আর ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই আসে কামেন। এর গতি ছিল ৬৫ কিলোমিটার। আর ২০০৯ সালের ২৫ মে আঘাত হানে আইলা। এর গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার।

সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, শুক্রবার বিকেল নাগাদ ফণী ওড়িষা উপকূলে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে সন্ধ্যার দিকে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার কথা।

ঝড়ের শক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, ঝড়ের শক্তি বোঝা যায় বাতাসের গতি দিয়ে। এখন যে গতি অর্থাৎ ঘন্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার, একে বলা হয় অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়। তবে ভারত উপকূল হয়ে এলে ফণীর গতি কিছুটা কমতে পারে। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে এটি হয়তো ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিবেগে বয়ে যেতে পারে। একে আমরা ঘূর্ণিঝড় বলি।

ঘূর্ণিঝড় ফণী এখন ওড়িষার দিকে আছে। এটি এখনও বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে। ঝড়টি যদি ভারতে আগে আঘাত হানে, তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সেখানে বেশি হবে। পাশাপাশি সেখানেই বাতাসের গতি অনেকখানি কমে যাবে। সেখানে অনেক জায়গায় বাধা পাবে, বৃষ্টি হয়ে পানি যখন ঝরে যাবে তখন এর শক্তিও অনেক কমে যাবে। পরে ভারত হয়ে এটি সাতক্ষীরা-খুলনা অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করার কথা। তবে আমাদের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কমে যাবে, কারণ সেখানে আমাদের সুন্দরবন আছে। এই বন বড় বাঁধা হিসেবে কাজ করবে। ফলে ঝড়ের গতি আরও কমে যাবে। বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হতে পারে, কিন্তু গতি ও ক্ষতি কমে যাবে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ফণীর বর্তমান ব্যাস প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার। ভারতের উপকূল হয়ে আসলেও এর এক পাশ সাগরেই থাকবে, ফলে সে আবার সাগর থেকে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। তাই ভারত হয়ে আসলেও ঝড়ের শক্তি খুব বেশি কমে যাবে বলে মনে করেন না আবহাওয়াবিদরা।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial